• বারুইপুর: সারা দিন মদের নেশায় চুর থাকত, বৌকেও পেটাত প্রভাস, বলছেন প্রতিবেশীরা
    এই সময় | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের গুলিতে নিহত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার রাতে তাকে অকুস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, সেই সময়ে তিনি বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) এক সদস্যের হাত থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেয়। এক রাউন্ড গুলিও চালায় সে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। তাতেই নিহত হয় প্রভাস। বুধবার সকালে সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই কার্যত স্তম্ভিত বারুইপুরে প্রভাসের প্রতিবেশীরা।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, মূলত অনুষ্ঠান বাড়িতে রান্নার কাজ করত প্রভাস। তার মা সন্ধ্যা মণ্ডল এবং স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। বছর ষোলোর এক ছেলেও রয়েছে প্রভাসের। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান তার স্ত্রী। তার পরে আর তাকে পাড়ায় দেখা যায়নি। এক প্রতিবেশী বলেন, ‘এমনিতে নিজের মতোই থাকত প্রভাস। প্রচুর মদ খেত। সারা দিন নেশায় চুর হয়ে থাকত। টুকটাক এ দিক-ও দিক কাজ করে এসেই মদ নিয়ে বসে পড়ত। এ সব নিয়ে মাঝে মাঝে অশান্তিও হত বাড়িতে।’ পড়শিদের দাবি, মদ খাওয়ার জন্য স্ত্রীর থেকেও টাকা চাইত প্রভাস। না পেলে মারধরও করত। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সেই অর্থে অসামাজিক কাজকর্মের অভিযোগ অতীতে ওঠেনি। সেই কারণে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে প্রভাসের গ্রেপ্তারি আরও হতচকিত করে দিয়েছিল প্রতিবেশীদের।

    প্রভাসের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল মা সন্ধ্যা। তবে ছেলে তার অপকর্মের সাজা পেয়েছে বলেই মত বৃদ্ধার। তাঁর কথায়, ‘মায়ের তো কষ্ট হবেই। ও যা কর্ম করেছে, তাতেই গিয়েছে। আমার শান্তি। ও যা করেছে, ওর যে মৃত্যু হয়ে গিয়েছে আমার শান্তি। মৃতদেহ আমি আনব না। আর আমি দেখতে চাই না। ওকে নিয়ে যা খুশি করুক, আমরা কেউ যাব না। ও আমাদের কথা শোনেনি। মায়ের কথা শোনেনি। নেশা করত।’ একই মত স্ত্রীরও। তিনিও বলেন, ‘যখন গ্রেপ্তার হয়েছে, তখনই ধরে নিয়েছি যে, ও (প্রভাস) কিছু তো করেছে। ও যা করেছে, তার সাজা পেয়েছে। আর কী বলব!’

    বারুইপুর কাণ্ডে প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিল প্রভাস। নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার দিন শেষ বার তার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল নাবালিকাকে। সিসিটিভি ফুটেজে তা দেখার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, নাবালিকার দেহ কোথায় ফেলা হয়, তা প্রভাসই জানিয়েছিল। তাকে জেরা করেই মিলেছিল মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারের নাম। কিন্তু এর পরেই বার বার বয়ান বদলাতে থাকে অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, বার বার ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। জেরায় কখনও সে দাবি করে, ১০ হাজার টাকার টোপ দিয়ে ওই কিশোরীকে আনন্দই নিয়ে আসতে বলেছিল। এ ছাড়া এই ঘটনায় আর তার কোনও ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করে প্রভাস। অথচ মুখোমুখি জেরায় প্রভাসের দাবি অস্বীকার করে আনন্দ। একে অপরের উপর দোষ চাপাতে থাকে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনায় সমান ভাবে জড়িত প্রভাসও। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন আনন্দ ও প্রভাসের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত একই জায়গায় ছিল। সেই কারণেই ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অকুস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রভাসকে।

  • Link to this news (এই সময়)