‘চন্দ্রশেখর রাও ও তাঁর পুত্র আর্থিক সন্ত্রাসবাদী’, রাজ্যে বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর
প্রতিদিন | ০৮ জুলাই ২০২৬
তেলেঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও ও তাঁর পুত্রকে ‘আর্থিক সন্ত্রাসবাদী’ বলে আক্রমণ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির। তেলেঙ্গানার কালেশ্বরম প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রাক্তন শাসকদল ভারত রাষ্ট্র সমিতিকে (বিআরএস) নিশানায় নিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিধানসভা ও বিধানপরিষদে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পুত্রকে যোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তেলেঙ্গানার কালেশ্বরম সেচ প্রকল্পকে বর্তমান কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছিল বিআরএস। সেই অভিযোগের পালটা এক অনুষ্ঠানে বিআরএসকে তুলোধোনা করেন রেবন্ত রেড্ডি। তিনি বলেন, “বিআরএস সরকার রাজ্যের ওপর ৮.২১ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়েছে।” তাঁর কথায়, “৩৮,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাণহিতা-চেভেলা প্রকল্প হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটাই কালেশ্বরম প্রকল্পে জুড়ে দিয়ে ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা দেখানো হয়। নতুন করে করা হয় প্রকল্পের নকশা। ওদের জমানায় ঠিকাদারদের ১.০২ লক্ষ কোটি টাকা পরিশোধও করা হয়। ওদের আমলেই কালেশ্বরম প্রকল্পটি ভেঙে পড়ে।”
এরপরই বিআরএস ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানায় নিয়ে তিনি বলেন, “এই ধ্বংসলীলা ওরাই চালিয়েছে। ইংরেজিতে এটাকে বলা হয় ‘financial terrorists’ বা ‘আর্থিক সন্ত্রাসী’। সন্ত্রাসবাদ অনেক ধরনের হয়। কে চন্দ্রশেখর রাও, তাঁর পুত্র কেটিআর ও ভাইপো টি হরিশ রাও হলেন আর্থিক সন্ত্রাসী। তারা শুধু তেলেঙ্গানাকে লুট করেনি, বরং অর্থনীতির মূল ভিতে ধ্বংসযজ্ঞও চালিয়েছে।”
উল্লেখ্য, বিআরএস আমলে তেলেঙ্গানার ভূপালপল্লী জেলার কালেশ্বরমে গোদাবরী নদীর উপর কাজ শুরু হয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম বহুমুখী সেচ প্রকল্পের। যার লক্ষ্য ছিল বিশাল পাম্প ও টানেলের মাধ্যমে নদী থেকে জল অনেক উঁচুতে তুলে তেলেঙ্গানার খরস্রোতা অঞ্চলগুলোতে সেচ ও পানীয় জল সরবরাহ করা। তবে এই প্রকল্পের ব্যারেজগুলোর বিপুল ক্ষতি ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল। এবার সেই ইস্যুতে বিরোধীদের আক্রমণের পাশাপাশি বিধানসভার যৌথ অধিবেশনে প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্কের আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।