• ‘নষ্ট হয়েছে এমন একটা গাড়ি দেখান’, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে চ্যালেঞ্জ গড়করির
    প্রতিদিন | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে কোনওভাবেই গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হয় না। ফের জোরাল দাবি মোদি সরকারের। কেন্দ্রর সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গড়করি রীতিমতো চ্যালেঞ্জের সুরে বলছেন, “যদি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি অর্থাৎ E-20 ফুয়েলের জন্য কোনও একটি গাড়ির ইঞ্জিনও খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে সেটার প্রমাণ দিন।” গড়করির দাবি, “এই যে ইথানল নিয়ে প্রচার হচ্ছে, সবটাই পয়সা দিয়ে করা অপপ্রচার।”

    দেশে জ্বালানি সংকট কাটাতে বহুদিন ধরেই ইথানলের জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে মোদি সরকার। আগামী দিনে স্রেফ ইথানলের ভরসাতেই গাড়ি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রের। ইথানল হল আখ, ভুট্টার মতো বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের জৈব জ্বালানি। পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়ে এটি ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রের দাবি, ভিনদেশ থেকে আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরতা কমাতেই ইথানলের জ্বালানি তৈরি করতে মরিয়া সরকার। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ইথানলের গুরুত্ব আরও বেশি করে অনুধাবন করতে পারছে মোদি সরকার। সমস্যা হল এই ইথানল নিয়ে আবার অভিযোগ অনেক। গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, ইথানলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাইলেজ কমে যাচ্ছে। এমনকী বহু গাড়িতে এই মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহার করা না যাওয়ায়-নতুন গাড়ি কিনতে হচ্ছে।

    সরকার বরাবর দাবি করে আসছে, ইথানলে এই ধরনের কোনও সমস্যা হয় না। আরও একবার সেই দাবির পুনরাবৃত্তি করলেন নীতীন গ্যড়করি। তাঁর সাফ কথা, “সরকারের বিরুদ্ধে পয়সা দিয়ে অপপ্রচার করাচ্ছে বিরোধীরা।” তিনি বলছেন, “এখনও একটা গাড়িও এমন পাওয়া যায়নি ইথানলের মিশ্রণের জন্য যে গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলছেন, আসলে সরকার E-20 টার্গেট পূরণ করে ফেলেছেন। এবার আরও বৃহত্তর লক্ষ্যে এগোচ্ছে।”

    যদিও গাড়ি তৈরি সংস্থাগুলিও স্বীকার করে নিচ্ছে ইথানলে সামান্য হলেও মাইলেজ কমছে। গত শনিবার দিল্লিতে সুজুকি, টয়োটা, বাজাজ, টিভিএস, হুন্ডাই এবং হিরো মটো কর্পের শীর্ষ আধিকারিকরা একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তাঁরা দাবি করেন, ইথানলের বেশি ব্যবহারে ইঞ্জিনের ক্ষতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২৫-২৬ সালে ওই সংস্থাগুলি প্রায় ২.৮ কোটি গাড়ি সার্ভিসিং করেছে। এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি ৩ বছরের পুরনো, কিন্তু কোনও গাড়ির ইঞ্জিনই ক্ষতির মুখে পড়েনি। তবে সংস্থাগুলি মেনেছে, মাইলেজে সামান্য হেরফের হচ্ছে। মারুতি সুজুকির কর্তা রাহুল ভারতী মেনে নিয়েছেন, সব মিলিয়ে ৩-৩.৫ শতাংশ মাইলেজ কমার প্রমাণ মিলেছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)