ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সফরে যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় নতুন করে কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনে যথা সময়ে কমিটি গড়ে ঘটনার রিপোর্ট প্রস্তুত করল পুলিশ। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে সেই রিপোর্ট দিতে চায় পুলিশ। পুলিশের সেই আবেদন মেনে নিয়ে রিপোর্ট পেশের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
গত ডিসেম্বর মাসে মেসির ভারত সফরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল কলকাতাও। শহরের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল উদ্যোক্তারা। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের প্রচুর মানুষ টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু এই অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, প্রচুর মানুষ মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন। তাঁদের কারও মাঠে ঢোকার অনুমতি ছিল না। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সারাক্ষণ মেসির পাশে ছিলেন। অনুমতি না নিয়ে মেসির গায়েও হাত দেন তিনি। মাঠে ভিড়ের কারণে দর্শকরা মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। তাই তারকা ফুটবলার মাঠ ছাড়তেই বিক্ষুব্ধ জনতা স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমেই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও ভাঙচুরের ঘটনাতে মামলা রুজু করে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে শতদ্রু জামিনে মুক্তি পান। রাজ্যে পালাবদলের পর রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। মেসি-কাণ্ডের তদন্ত নতুন করে গতি পায়। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রক্রিয়া চালাতে হবে। তারপর তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে। বুধবার আদালতের দেওয়া সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। এদিন রাজ্যের আইনজীবী রিপোর্ট জমা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে বিচারপতি ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিচারপতি রিপোর্ট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।