: গীতার মর্মার্থ সকলের কাছেই সহজলভ্য করে তুলতে অসম্ভব কাজ করেছেন বাঁকুড়ার এক মেয়ে। ভেঙেছেন রেকর্ডের পর রেকর্ড। নিজের মেধা, পরিশ্রম আর একাগ্রতার জোরে আবারও বড় সম্মান পেলেন বাঁকুড়া শহরের স্টেশন মোড় এলাকার বাসিন্দা তথা একটি কলেজের শিক্ষিকা সোমা চৌনী। বাংলা ভাষায় সহজভাবে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অনুবাদ করে তিনি আগেই সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এবার সেই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গত ২৮ জুন কলকাতার টালিগঞ্জের সৃজনা ব্যাঙ্কোয়েট হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল আচিভার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’এর পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বঙ্গ প্রতিভা সম্মান’ প্রদান করা হয়। এই সম্মান পাওয়ায় খুশি শুধু সোমা নন, গর্বিত গোটা বাঁকুড়াও।
সংস্কৃত ভাষায় লেখা গীতা অনেকের কাছেই কঠিন মনে হয়। তাই সাধারণ মানুষ যাতে সহজে গীতার শিক্ষা ও ভাবার্থ বুঝতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই বাংলা ভাষায় অনুবাদের কাজ শুরু করেছিলেন সোমা চৌনী। মূল ভাব অক্ষুণ্ণ রেখে সহজ ভাষায় প্রতিটি শ্লোকের অর্থ তুলে ধরতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করেছেন। তাঁর এই কাজ ইতিমধ্যেই বহু পাঠকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এই অসাধারণ কাজের জন্য এর আগেও তিনি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস এবং ন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডস-এর স্বীকৃতি পেয়েছেন। সর্বকনিষ্ঠা বাঙালি মহিলা হিসেবে সেই সম্মান অর্জনের পর এবার তাঁর সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হল ‘বঙ্গ প্রতিভা সম্মান’। একের পর এক স্বীকৃতি প্রমাণ করে, তাঁর কাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সমাজে তার কতটা প্রভাব রয়েছে।
সম্মান পাওয়ার পর সোমা চৌনী জানান, এই পুরস্কার তাঁকে আরও ভাল কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে। ভবিষ্যতেও তিনি বাংলা ভাষার মাধ্যমে ভারতীয় ঐতিহ্য ও গীতার শিক্ষা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। তাঁর এই সাফল্যে খুশি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাঁকুড়ার মানুষও। তাঁদের বিশ্বাস, আগামী দিনেও সোমা চৌনী নিজের কাজের মাধ্যমে জেলার নাম আরও উজ্জ্বল করবেন।