জাতীয় সড়কে টোটো চালানো যাবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল বারাসত জেলা পুলিশ। তখন থেকেই ক্ষোভ জমছিল। অবশেষে বুধবার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরিষেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হলেন টোটো চালকরা। শহরের বিভিন্ন রুটে টোটো চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা।
এ দিন সকালে বারাসত-টাকি রোডের শতদল ময়দানে জড়ো হন টোটো চালকরা। তার পরে শুরু হয় বিক্ষোভ। জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকে রাস্তায় নামলেই টোটো আটক করা হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁদের রুজি-রোজগার।
জেলা প্রশাসনের কাছে নতুন বা বিকল্প রুট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন টোটো চালকরা। বিক্ষোভে সামিল হওয়া একাধিক টোটো চালকের অভিযোগ, ‘বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ধরপাকড় চলছে। এমন সিদ্ধান্তে তাঁদের সংসার চালানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ প্রশাসনকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টা বিবেচনা করার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।
অনেকেই টাকা ধার করে টোটো কিনেছেন। প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তি শোধ করেন তাঁরা। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তে তাঁদের আয় কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের পড়াশোনার ব্যয়, ঋণের মাসিক কিস্তি—সব কিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
বারাসাত শহরের বিভিন্ন রুটে পরিষেবা বন্ধ থাকায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। অনেককেই বিকল্প পরিবহণের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। যাত্রীদের বিকল্প ভরসা পায়ে চালানো ভ্যানগুলিকেও রাস্তায় নামতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে টোটো চালকদের বিরুদ্ধে। বারাসাতের নবপল্লী এলাকায় একাধিক ভ্যানের চাকার হাওয়া খুলে দিতেও দেখা যায়। তবে এমন কোনও ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন টোটো চালকরা।
তবে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করা হবে বলেই আশাবাদী তাঁরা। তবে এই নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বারাসাত জেলা পুলিশ এক আধিকারিক জানান, জাতীয় সড়কে টোটো চালানো যায় না। এই নিয়ম নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার সচেতন করা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা, বড়সড় দুর্ঘটনায় এড়াতেই এই নির্দেশ বলে জানিয়েছেন তিনি।