• তৃণমূলের মিছিলে তুলকালাম, মেজাজ হারিয়ে নিজের কর্মীকেই সপাটে চড় মমতার?
    এই সময় | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলে চরম অশান্তি, ধুন্ধুমার। অশান্তির মধ্যে মেজাজ হারিয়ে এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দাবি। ওই ব্যক্তি একজন তৃণমূল কর্মী বলেই জানা গিয়েছে। রাজ্যের শাসকদলও এই অভিযোগ তুলে সরব হতে শুরু করেছে। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, নিজেদের কর্মীদের ঝামেলা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়ে মেজাজ হারিয়ে থাপ্পড় মেরে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শুধু চড় নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন কর্মীর পিঠে চড়-চাপ্পড় মারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    বুধবারের এই মিছিলে উপস্থিত একাংশের দাবি, সে সময়ে বিশৃঙ্খলার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অনেকে। তাঁদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করছিলেন তৃণমূল নেত্রী। হাত দিয়ে সবাইকে সরতে বলছিলেন। তখনই ভুলবশত এক কর্মীকে থাপ্পড় মেরে বসেন তিনি বলে দাবি। এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘ওঁর মানসিক স্থিরতা নেই। মানসিক স্থিতি হারালে লোকে এরকম করে।’

    বারুইপুরের নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের আয়োজিত মিছিলে শুরু থেকেই ছিল অশান্তির পরিস্থিতি। তৃণমূলের অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে মিছিল করলেও তাতে বিজেপির লোকেরা ঢুকে বাধা দিতে থাকে। স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা গড়ায় হাতাহাতি-মারপিটে।

    তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে উপস্থিত থাকলেও তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেনি। তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মীদের মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, ‘হাইকোর্টের নির্দেশের অবমাননা করা হয়েছে। আমি ঝামেলার কথা শুনে এসে দেখি আমার কর্মীদের রক্ত ঝরছে। মেয়েদের সব মাথা-মুখে রক্ত। লুম্পেনদের এনে মেয়েদের গায়ে যে ভাবে হাত দিয়েছে...। আমি তাদের রেসকিউ করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি।’

    পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। কোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে দিতে পারেনি তাঁরা বলে সমালোচনা করেন মমতা। কী ভাবে একই রুটে অন্য মিছিল অ্যালাও করল পুলিশ, প্রশ্ন তুললেন তিনি।

    বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘এই পরিবর্তনই কি বাংলার মানুষ চেয়েছিল? কী ভাবে ক্ষমতায় এসেছে তা তো আমরা জানি। কিন্তু নিজেদের কাজটা করুন। ল অ্যান্ড অর্ডার মেনটেন কর। আমরা কোর্টের পারমিশন নিয়ে মিছিল করতে গিয়েছিল। তাও ছেলে-মেয়েগুলোতে কী ভাবে মার খেতে হলো! আমাদের হ্যান্ড মাইক কেড়ে নিয়েছে।’

    এখানেই শেষ নয়, মিছিলের পুরো রুটে বিজেপির বিরুদ্ধে মাইক বাজানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সকাল ছটা থেকে নিজেরা ডিজে বাজাচ্ছে।’ তবে মিছিলে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তিনি সরাসরি বিজেপি সরকারকে নয়, পুলিশ প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন। ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগ জানাতে তিনি ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।

    তৃণমূলের মিছিলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় বিজেপির যুক্ত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘এর আগে যখন শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারকে পাড়ায় পাড়ায় গো-ব্যাক স্লোগান, কালো পতাকা দেখানো হতো, তখন কি আদালতকে অতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শন করা হতো? তবে আজকের ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, এটা আমি জানি না। যদি কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গো-ব্যাক বলে, চোর বলে, তা হলে জানবেন, এটা জনতার স্বতস্ফূর্ত জনরোষ। তাকে কত আটকাবেন? লোকে দিল্লি থেকে আসছে অভিষেককে ডিম মারার জন্য। যদিও এই প্রবণতা গণতন্ত্রে শোভন নয়।’

  • Link to this news (এই সময়)