বারুইপুরের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত পুলিশের এনকাউন্টারের নিহত। পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করলেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম দুই মুখ মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল। তাঁদের বক্তব্য, কামদুনি মামলায় এখনও প্রকৃত বিচার মেলেনি। তাই ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
টুম্পা ও মৌসুমির দাবি, বারুইপুরের ঘটনায় যে ভাবে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে, সেই ধরনের কঠোর পদক্ষেপই ধর্ষকদের জন্য হওয়া উচিত। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তৎকালীন সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। টুম্পা বলেন, ‘যে ভাবে এনকাউন্টার করা হয়েছে, আমরা অত্যন্ত খুশি। কামদুনির দোষীদের আড়াল না করে যদি এ ভাবে মারা হতো, তা হলে বারুইপুরে হয়তো ছোট বাচ্চাকে আমাদের হারাতে হতো না। বিগত সরকার সাজা তো দেয়নি, উল্টে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে কী ভাবে রোধ করা যায়, সেই চেষ্টা করেছে।’
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর শুনে স্বস্তি পেয়েছেন মৌসুমীও। তাঁর বক্তব্য, ‘যখন শুনলাম, এনকাউন্টার করা হয়েছে, আমরা কোথাও একটু সাহস পেলাম। কোথাও একটু মন থেকে শান্তি পেলাম। দীর্ঘ ১৩ বছর লড়াই করেছি। বিগত সরকারের আমলে আমরা বিচার পাইনি। কামদুনির দোষীদের বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়েছিল। এই সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনকাউন্টার করা হলো, এই জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’
বারুইপুরের মতো ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর হুগলির জিরাটের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। বারুইপুরের ঘটনায় অভিযুক্তকে এনকাউন্টারের মৃত্যুতে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন।
ঘটনার দিন প্রাইভেট পরে বাড়ি ফিরছিল বছর তেরোর ওই ছাত্রী। হুগলির জিরাট স্মৃতি মন্দির পাড়ায় গৃহশিক্ষিকার কাছে পড়তে গিয়েছিল সে। অন্যদিন যেমন যেতো। রাস্তায় তাকে নেওয়ার জন্য বাবা রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু মেয়ে বাড়ি ফেরেনি। তাকে রাস্তা থেকেই অপহরণ করে হাটতলার একটি বাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চলে নির্মম অত্যাচার। পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে দুষ্কৃতীরা। বলাগড় থানার পুলিশ তদন্তে নেমে গৌরব মণ্ডল ও কৌশিক মালিককে গ্রেপ্তার করে। চুঁচুড়ার নিম্ন আদালত বিরল থেকে বিরলতম ঘটনার জন্য দুই অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা শোনায়। আরেক অভিযুক্ত নাবালক হওয়ায় জুভেনাইল আদালতে তার বিচার হয়। পরে সে ছাড়া পায়। ফাঁসির সাজা প্রাপ্ত আসামীরা হাইকোর্টে আবেদন করলে আজীবন কারাবাসের নির্দেশ আদালত।
মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে রয়েছেন নাবালিকার বাবা। বারুইপুরের ঘটনার কথা শুনে আঁতকে উঠেছিলেন। প্রায় তাঁর মেয়ের বয়সি আরও এক নাবালিকা নৃশংসতার শিকার। এনকাউন্টারের কথা শুনে ওই নাবালিকার বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনা হয়েছিল, বারুইপুরের ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা দেখলাম। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুই একমাত্র শাস্তি। রাজ্য সরকার যেটা করেছেন বারুইপুরের ঘটনা এনকাউন্টার এটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত। এই ধরনের অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে গেলে সমাজের ক্ষতি।’