• রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ, চাঞ্চল্য মেদিনীপুর মেডিক্যালে
    এই সময় | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। বুধবার ঘটনাটি সামনে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং ওষুধ ও স্যালাইনের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল সুপার ডাঃ ইন্দ্রনীল সেন।

    জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর পল্লির বাসিন্দা মানসী দে গত ৫ জুন একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের নতুন ভবনের মহিলা ওয়ার্ডে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। রোগীর ছেলে বিশ্বজিৎ দে অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে তিনি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে মানসী দেবী অস্বস্তির কথা জানান। বিষয়টি দেখে তাঁর সন্দেহ হওয়ায় তিনি স্যালাইনের বোতল পরীক্ষা করেন। তখনই দেখতে পান, যে স্যালাইনটি রোগীর শরীরে দেওয়া হচ্ছে তার মেয়াদ ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ প্রায় তিন মাস আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া স্যালাইনই রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছিল।

    বিশ্বজিৎ দে-র দাবি, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের জানানো হয় এবং পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়।

    এরপর মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইনটি খুলে ফেলা হয় এবং রোগীকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘটনাকে তিনি চিকিৎসায় চরম গাফিলতি বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘হাসপাতালের মতো জায়গায় কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন রোগীর শরীরে লাগানো হল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। বিষয়টি থানায় জানাব।’

    ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের সুপার ডাঃ ইন্দ্রনীল সেন। তিনি বলেন, ‘রোগীর শরীরে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন চালানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে সেটি খুলে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে রোগী সুস্থ রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।’ এই ঘটনার পর হাসপাতালের ওষুধ ও স্যালাইন সংরক্ষণ, বিতরণ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ভাবে নজরদারি করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর পরিবার জানিয়েছে, তারা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।

  • Link to this news (এই সময়)