• তৃণমূলের ৪৪০ কোটির তহবিল, কড়া পদক্ষেপ ইডির!
    আজকাল | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূলের। দলের ৪৪০.৪২ কোটি টাকার তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ইডি। আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইনের (পিএমএলএ) আওতায় তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে৷ বিমান কেনার নামে এক সংস্থার মাধ্যমে ১৬০ কোটি টাকা সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ। তারপরই তৃণমূলের দলীয় তহবিল এবং একটি বিজনেস জেট ও হেলিকপ্টার কেনা সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের তদন্ত জোরদার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এরপরই  তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা সম্বলিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করেছে এই কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা।

    ইডি বিমান পরিষেবা খাতের 'কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজ'-এর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

    ইডি-র আধিকারিকদের মতে, তদন্তে এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে যে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূল এবং ওই দলের ঘনিষ্ঠ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে 'কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড' এবং একটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল।

    কেন্দ্রীয় সংস্থাটির অভিযোগ, এরপর 'কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড' ৮২.৯৬ কোটি টাকা অন্য একটি সদ্য গঠিত সংস্থায় পাঠায়। সেখান থেকে প্রায় ১১২ কোটি টাকা খরচ করে একটি 'এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০' বিজনেস জেট এবং একটি 'অগুস্তা-ওয়েস্টল্যান্ড ১০৯এসপি' হেলিকপ্টার কেনা হয়।

    ইডি আরও দাবি করেছে যে, হেলিকপ্টারটি কেনার জন্য ব্যবহৃত তহবিলের একটি অংশ বিদেশ থেকে এলেও, অর্থের সিংহভাগই এসেছিল তৃণমূল ও ঘনিষ্ঠ অ্যাকাউন্টগুলি থেকে। তদন্তকারীরা এমন অভিযোগও খতিয়ে দেখছেন যে, বিমানগুলি কেনার পর সেগুলি ওই রাজনৈতিক দলকেই লিজ দেওয়া হয়েছিল এবং দল তার ব্যবহারের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল।

    কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, এই পুরো ব্যবস্থাটি সম্ভবত এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে লেনদেনের প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং উদ্দেশ্য গোপন রাখা যায়।ইডি বলেছে, "এরপর বিমান ব্যবহারের অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং মনে হচ্ছে, বর্তমানে তদন্তাধীন এই লেনদেনগুলির প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করার জন্যই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল।"

    গত মাসে, তৃণমূলের আর্থিক তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। দলীয় তহবিলের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি জানায় তৃণমূলের 'বিক্ষুব্ধ' বিধায়করা। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলকাতা পুলিশ তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডেবিট কার্যক্রম (টাকা তোলা বা লেনদেন) স্থগিত করেছিল।

    অনুমান করা হচ্ছে, তৃণমূলের এই তিন অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে।

    দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা বা 'ডেবিট ফ্রিজ'-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল মামলা দায়ের করে। সেই মামলার শুনানি ছিল গত ২ জুলাই। সেদিন কলকাতা হাইকোর্ট, ওই তিন বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়।

     
  • Link to this news (আজকাল)