• ভিআইপি বহর অতীত, ঘাটালে টোটোয় চড়ে মাস্টারপ্ল্যান সাজালেন লেডি সিংহম! বন্যা মোকাবিলায় কাড়লেন নজর
    News18 বাংলা | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • : ঘাটাল ও বন্যা— শব্দদুটি যেন এই জেলায় একে অপরের পরিপূরক। প্রতি বছর বর্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যাওয়াটা এখানকার মানুষের কাছে একপ্রকার রোজনামচা। কিন্তু এবার বিপর্যয়ের পর নিছক ত্রাণ বিলি নয়, বরং বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই আসরে নামলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।

    প্রসঙ্গত ভোটের আগে জেলার দায়িত্ব নিয়েই দুর্নীতি দমনে কড়া হাতে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। আর এবার বিপদ ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলার আগেই নীল বাতি লাগান গাড়ি বা নিরাপত্তার জমকালো বহর সরিয়ে রেখে একেবারে সাদামাঠা টোটোয় চেপে ঘাটালের মনসুকা ১ এবং ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মত প্রত্যন্ত ও সংকীর্ণ গলি পথে পৌঁছে গেলেন খোদ পুলিশ সুপার। তাঁর এই ‘গ্রাউন্ড জিরো’ পরিদর্শন বুঝিয়ে দিল, সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধায় তাঁদের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছতে তিনি কতটা বদ্ধপরিকর। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখেন। আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    পুলিশ সুপারের সঙ্গে এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট সহ পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্তারা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানান, যখন এই এলাকাগুলো বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়, বন্যার ঠিক তার আগেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইছে প্রশাসন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, সিভিল প্রশাসন, পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধি— এই তিন স্তম্ভ একজোট হয়ে, কোনওরকম রাজনৈতিক রং না দেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও সুরক্ষিত করার চেষ্টায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

    সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রসূতি মায়েদের নিরাপত্তায়। পুলিশ সুপারের কথায়, প্রসূতিদের সম্ভাব্য প্রসবের অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই তাঁদের নিরাপদ স্থানে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করার রূপরেখা তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, বন্যা কবলিত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ও পানীয় জলের হাহাকার মেটাতেও তাঁর নেতৃত্বে নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ গঠনমূলক পদক্ষেপ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ট্রান্সফরমারগুলি উঁচুতে করা এবং পানীয় জল বা শৌচকর্মের জলের জন্য সাবমার্সিবল পাম্প চালাতে নির্দিষ্ট পয়েন্টে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    এর সঙ্গেই প্রস্তুত থাকছে বাড়তি নৌকা, মেডিক্যাল ক্যাম্প, অ্যান্টি-ভেনম বা সাপে কাটার প্রতিষেধক সহ জরুরি ওষুধপত্র এবং কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে রান্না করা খাবার। রাতে অন্ধকারে যাতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা না হন এবং উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য উঁচুতে জেনারেটর চালিত শক্তিশালী সার্চলাইটের বন্দোবস্ত করার কথাও জানান পুলিশ সুপার। তাঁর এই আগাম ও নিখুঁত পরিকল্পনা এবার ঘাটালের বানভাসি মানুষের দুর্গতি অনেকটাই লাঘব করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)