হাতেনাতে মিলে গেল জিআই ট্যাগের সুফল, শিল্পীদের ভাগ্য 'চকচকে' করতে বিরাট পরিকল্পনা ইউনেস্কোর
News18 বাংলা | ০৯ জুলাই ২০২৬
অবশেষে বহুদিনের অপেক্ষার অবসান। পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার নতুনগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল পেয়েছে জিআই স্বীকৃতি। এই সুখবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুনগ্রামজুড়ে নেমে আসে উৎসবের আবহ। শিল্পীদের উদ্যোগে এদিন গ্রামে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও পরিচিত করে তোলার যে স্বপ্ন শিল্পীরা দেখে এসেছেন, জিআই স্বীকৃতি সেই স্বপ্নপূরণের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছেন সকলে।
পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সত্যিই প্রশংসনীয় পুতুল শিল্পীরা তৈরি করেন। শিল্প জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, এটা সত্যিই খুশির খবর। আগামী দিনে যাতে শিল্পের প্রসার হয় এবং শিল্পীদের জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন ঘটে, তার জন্য যা যা করার আমরা করব।” এদিন নতুনগ্রামে আসেন ইউনেস্কোর একটি প্রতিনিধিদলও। তাঁরা শিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখেন, তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন এবং শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানান হয়, নতুনগ্রামের কাষ্ঠশিল্পীদের নিয়ে শীঘ্রই একটি বিশেষ প্রকল্প শুরু করা হবে।
সেই প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাঁদের তৈরি শিল্পকর্ম দেশ-বিদেশের আরও বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী দিনেও এই ধরনের পরিদর্শন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন। নতুন গ্রামের শিল্পী উত্তম ভাস্কর বলেন, “জিআই স্বীকৃতি পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি এবং আনন্দিত। ইউনেস্কোর সদস্যরা এসেছিলেন। আমাদের আগামী দিনে ৫০ দিনের একটা বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। আশা করছি জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে এবং ইউনেস্কোর সহযোগিতায় আমাদের শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
শতাব্দীপ্রাচীন এই কাষ্ঠশিল্পের মূল পরিচয়ই হল নতুনগ্রামের হাতে তৈরি কাঠের পুতুল। কাঠের পেঁচা, গৌর-নিতাই মূর্তি-সহ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম বহু বছর ধরেই দেশ-বিদেশের বাজারে সমাদৃত। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় এবার এই শিল্পের স্বকীয় পরিচয় সরকারি স্বীকৃতি পেল। পাশাপাশি নকল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা, বাজার সম্প্রসারণ এবং শিল্পীদের আর্থিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হল। এই স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মকেও এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন শিল্পীরা।সব মিলিয়ে, জিআই স্বীকৃতি এবং ইউনেস্কোর নতুন উদ্যোগ, এই দুই সুখবর নতুনগ্রামের কাষ্ঠশিল্পীদের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। শিল্পীদের বিশ্বাস, এর ফলে শুধু তাঁদের শিল্পের মর্যাদাই বাড়বে না, নতুনগ্রামের কাষ্ঠশিল্প বিশ্বদরবারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।