• বারুইপুরে এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যু, 'বিচার পাক কামদুনি', আশাবাদী টুম্পা-মৌসুমীরা, যা বললেন..
    News18 বাংলা | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • বারুইপুরের পর কামদুনিও চাইছে বিচার! বারুইপুরে নাবালিকাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত অন্যতম অভিযুক্ত। সেই ইস্যুতেই রাজ্য সরকারের পাশে কামদুনির প্রতিবাদী মুখ টুম্পা-মৌসুমি কয়ালরাও চাইছেন সেদিনের ধর্ষকদের বিরুদ্ধেও এমনই কঠিন শাস্তি। তাঁদের বক্তব্য, কামদুনি মামলায় এখনও প্রকৃত বিচার মেলেনি। তাই ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    টুম্পা ও মৌসুমির দাবি, বারুইপুরের ঘটনায় যেভাবে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে, সেই ধরনের কঠোর পদক্ষেপই ধর্ষকদের জন্য হওয়া উচিত। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তৎকালীন সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনাও করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, সেই সময় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে পরবর্তী সময়ে এ ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমানো সম্ভব হত।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে বছর ২০ এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত তিন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেও পরে উচ্চ আদালতে সেই রায়ে পরিবর্তন আসে। মৃত্যুদণ্ডের সাজা বাতিল করে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তিনজন খালাস পান। তদন্ত ও মামলার পরিচালনা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠেছিল।

    এদিকে, বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন মামলায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পাল্টা গুলিতে সে নিহত হয়। এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কামদুনির নির্যাতিতার ভাইও বলেন, তাঁদের মামলায় এখনও কয়েকজন অভিযুক্ত বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার শিকার হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বারুইপুরের মতোই তাঁদের মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    তবে উল্লেখ্য, এনকাউন্টার নিয়ে দেশে আইনি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক দীর্ঘদিনের। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়াই আইনের স্বীকৃত পথ। তবে কামদুনীর দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা বিচার প্রক্রিয়ায় পূর্ববর্তী সরকারের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলে, পুনরায় তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে কামদুনি। বর্তমান বিজেপি সরকারের জামানায় ধর্ষকদের এমন শাস্তিই যেন চাইছে গোটা রাজ্য বলছে কামদুনি। আর তাতেই রাজ্যে বাড়বে নারী নিরাপত্তা। কামদুনির সেদিনের নৃশংস ঘটনারও মিলবে বিচার আশা টুম্পা মৌসুমীদের।
  • Link to this news (News18 বাংলা)