• তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করল ED, কব্জায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও
    আজ তক | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • তৃণমূল কংগ্রেসের বিরাট ধাক্কা। তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৪০ কোটি টাকার তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED। তাদের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা ও তার আশপাশের ৫ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এই তল্লাশি অভিযানের সময়, PMLA-২০০২ এর অধীনে 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস'-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। 

    ED ইতিমধ্যেই বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, 'বিমান পরিষেবা খাতের সঙ্গে যুক্ত 'কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজের' বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহ এবং 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' (AITC)-এর নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক অর্থ আদান-প্রদানের অভিযোগে, PMLA, ২০০২-এর অধীনে কলকাতা ও তার আশেপাশের ৫টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। এই তল্লাশি অভিযানের সময় 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের' ৩ HDFC ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যেখানে ৪৪০.৪২ কোটি টাকা রয়েছে, তা ফ্রিজ করা হয়েছে।' 

    প্রসঙ্গত, ED তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন, বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহ এবং সন্দেহজনক তহবিল স্থানান্তরের অভিযোগের তদন্ত করছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মূলত ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে AITC-র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা 'মেসার্স কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড' এবং তাদের সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল। 'মেসার্স কেয়ারওয়েল এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড' ২০২৩-২০২৬ সময়কালে ৮২.৯৬ কোটি টাকা তাদেরই সংশ্লিষ্ট আর একটি নবগঠিত সংস্থার কাছে স্থানান্তর করেছিল। এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল একটি 'এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০' বিমান এবং একটি 'অগুস্তা ১০৯ গ্র্যান্ড নিউ' হেলিকপ্টার কেনার জন্য।

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার জন্য মোট ১১২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এছাড়া, ২০২৩ সালে কেম্যান আইল্যান্ডস-ভিত্তিক একটি সংস্থার কাছ থেকে ১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অসুরক্ষিত ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। যা হেলিকপ্টার কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়।

    ইডির অভিযোগ, Embraer Legacy 600 বিমান এবং অগুস্তা হেলিকপ্টার কেনার পর সেগুলি আবার তৃণমূল কংগ্রেসকেই ভাড়ায় দেওয়া হয়, যদিও সংস্থার দাবি অনুযায়ী এগুলি কেনার অর্থের উৎস ছিল তৃণমূলের তহবিল। এরপর বিমান ব্যবহারের খাতে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা স্থানান্তর করা হয়।

    ইডির বক্তব্য, এই গোটা আর্থিক ব্যবস্থার প্রকৃত উপভোক্তা এবং লেনদেনের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলছে।
     
  • Link to this news (আজ তক)