‘এখনও সময় আছে, নিজের ঘরে ফিরে আসুন’, বিদ্রোহীদের বড় বার্তা মমতার
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ জুলাই ২০২৬
গত ৪ মে ফলপ্রকাশের পর থেকে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তা নিয়ে প্রতিনিয়ত নয়া মোড় দেখেছে রাজ্য-রাজনীতি। তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙন আর বিদ্রোহ দেখা গিয়েছে, তাতে ক্ষতি হয়েছে দু’পক্ষেরই। অভূতপূর্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের তৈরি করা দল ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো আস্থাভাজন নেতানেত্রীর ঋতব্রত-শিবিরে চলে গিয়েছে। আর সাংসদদের বড় অংশ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। এই আবহে বুধবার বিক্ষুব্ধদের বড় বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেইমানদের ক্ষমা করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এদিন ফেসবুক লাইভ করে বিদ্রোহীদের কাছে টানার বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এদিকে যাঁরা বিদ্রোহ করে বেরিয়ে গিয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেনে নিতে পারছেন না বলেই বিদ্রোহ দেখিয়েছিলেন। ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে। নানা কটূ কথাও বলেছিলেন। সেখানে এদিন নাম না করে বড় বার্তা দিলেন তিনি। বুধবার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ভিড় হয়েছিল যথেষ্টই। সেটাকেই মূলধন করে তৃণমূলনেত্রীর বার্তা, ‘অন্তত কর্মীদের কথা ভেবে ঘরে ফিরুন। দরকারে পরিবারে এসে পরিবারকে প্রশ্ন করুন। মাঝরাস্তায় থাকবেন না।’
অন্যদিকে যাঁরা আজ শিবির বদল করেছেন, এই কর্মীরা যে একসময় তাঁদের জন্যও লড়েছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কর্মীদের উপর পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তৃণমূলনেত্রী দাবি করেন, যাঁরা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন, তাঁদের জন্যই কর্মীদের উপর অত্যাচার বাড়ছে। তাই মমতা বলেন, ‘যাঁরা বেইমান, তাঁদের জন্য অত্যাচার অনেক বেড়েছে। এই বেইমানদের ক্ষমা করবেন না। ওরা বিজেপির দোসর হয়ে গিয়েছে। বারুইপুরে গিয়ে বলছে আমাদের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পাঠিয়েছেন। এত ছলনা কেন? যে কর্মীদের রক্ত নিয়ে আমার দেওয়া সিম্বল নিয়ে ইলেকশনে লড়েছেন, হয় তৃণমূল করুন আমাদের সঙ্গে। নাহলে সরাসরি বিজেপির কোলে গিয়ে দুলুন। কিছুই হবে না। ওরা নিজের পরিবার আর সম্পত্তি বাঁচানোর চেষ্টা করছে। ওরা নিষ্ঠুর, ওরা পৈশাচিক, ওরা অমানবিক, দানবিক।’
তাছাড়া এই বার্তা যে শেষবারের মতো দেওয়া হয়েছে তেমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর তৃণমূলের মধ্যে থেকেই তৃণমূলের ক্ষতি করার যে প্রয়াস সেটা ঠেকাতেই এমন বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। এখন তৃণমূলের কঠিন সময়। কারণ দল ভেঙেছে, তহবিল ফ্রিজ হয়েছে, কর্মীরা অত্যাচারিত, দলের প্রতীক-তহবিল প্রশ্নের মুখে রয়েছে। তাই কি এমন বার্তা? উঠছে প্রশ্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘একবার কর্মীদের কথা ভাবুন, এই কর্মীরা আপনাদের জন্য রক্ত দিয়েছে। বেইমানদের কথায়, বেইমানি করবেন না। সরাসরি বিজেপি করুন, নাহলে তৃণমূল করুন। মাঝরাস্তায় এভাবে থাকবেন না। মাঝগঙ্গায় গেলে এপারও যাবে, ওপারও যাবে। নদীর স্রোতকে কখনও আটকে রাখা যায় না।’