রামমন্দিরের অনুদান তছরুপ মামলার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেলেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তরা শুধু অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেই ক্ষান্ত হননি। ভুয়ো রসিদ দিয়ে ভক্তদের কাছ থেকে টাকাও তুলতেন বলে অভিযোগ। বুধবার শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের নাম ও লোগো-সহ একাধিক জাল অনুদানের রসিদ বই উদ্ধার করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। ঘটনায় গোটা দেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ভক্তদের অনুদান নেওয়ার সময় নকল রসিদ দিতেন অভিযুক্তরা। উদ্ধার হওয়া রসিদ বইগুলি দেখতে প্রায় আসলের মতোই। এমনকী তাতে ট্রাস্টের লোগোও ছিল। ফলে ভক্তদের পক্ষে কোনটা আসল আর কোনটা জাল বোঝা ছিল প্রায় অসম্ভব। তাই কেউ কিছু টেরও পাননি। অবাধে জালিয়াতি চালিয়ে গিয়েছেন তদন্তকারীরা।
প্রথম দিকে প্রায় সব ভক্তদের থেকে অনুদান নিয়ে এই ভুয়ো রসিদই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। তবে এ ভাবে মোট কত টাকা তছরূপ হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। গোটা বিষয়টা নিয়ে তদন্ত চলছে। জানার চেষ্টা চলছে কেলেঙ্কারির পরিমাণ।
তদন্তকারীদের দাবি, রাম মন্দির কর্তৃপক্ষ অনলাইনে রসিদ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার পরে এই কেলেঙ্কারিতে ইতি পড়ে। কাগজের রসিদ ব্যবহার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন অভিযুক্তরা। ভক্তরা তখন সরাসরি মন্দিরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদান পাঠাতেন। কিংবা অযোধ্যার মন্দিরের অনুমোদিত কাউন্টার থেকে সরাসরি রসিদ নিতেন। ফলে এই পথে জালিয়াতি বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদেই এই তথ্য জানা গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অনুদান তছরূপের মামলায় এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করেছে সিট। তাঁদের মধ্যে ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুকেই মূল অভিযুক্ত বলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা। অনুদান তছরুপের অভিযোগ সামনে আসার পরেই পদত্যাগ করেছেন চম্পত। তবে তার পরেও বিতর্ক থামেনি।
অনুদানের টাকা গোনার দায়িত্বে থাকা ছয় কর্মী দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে সিটের তদন্তে উঠে এসেছে। সিসিটিভি নজরদারির ফাঁকফোকর এবং নিরাপত্তা গাফিলতির সুযোগ নিয়েই এই তছরুপ চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।