‘ভগবানের মার’ নাকি ‘জঙ্গলের আইন’— মঙ্গলবার মাঝরাতে বারুইপুরে এনকাউন্টারের ঘটনায় দ্বিধা বিভক্ত সমাজ। শুরু রাজনৈতিক তরজাও। রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মরক্ষার স্বার্থেই বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের উপরে গুলি চালানো হয়েছে। পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে বিরোধীদের একাংশ। কী বলছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তারা?
মঙ্গলবার রাত ১২.৪৫ মিনিট নাগাদ ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থলে। সেই সময়েই ক্যানিং থানার পুলিশ সার্কলের (পিসি) ইনচার্জ রনি সরকারের সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। এক রাউন্ড গুলিও চালায়। পুলিশের পাল্টা গুলিতেই জখম হয় প্রভাস। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন কর্তা অরিন্দম আচার্য বলেন, ‘আইপিসি (Indian Penal Code) সেকশন ১০০, ১০১, ১০২-এ কী নির্দেশ দেওয়া আছে? সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশ নিজের প্রাণরক্ষা, অন্যের প্রাণরক্ষা, বা নিজের সম্পদ বা অন্যের সম্পদ রক্ষার তাগিদে গুলি চালাতে পারে। পুলিশ বারুইপুরে যেটা করেছে, আমি মনে করি ঠিক করেছে।’
এটা শুধু বারুইপুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে নয়, সামগ্রিক ভাবে গোটা পুলিশ টিমের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করবে বলে মনে করছেন তিনি। অরিন্দম আচার্য বলেন, ‘পুলিশে যে শক্তি, উদ্দীপনাটা হারিয়ে গিয়েছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যে মানসিকতাটা হারিয়ে গিয়েছিল। সেটা ফিরে এসেছে।… মুখ্যমন্ত্রী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছিলেন। সেখানে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়ে পুলিশ যে কাজটি করেছে, সেটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’
অন্য দিকে, রাজ্যের আরেক প্রাক্তন পুলিশ করতে নজরুল ইসলামের কথায়, ‘এনকাউন্টারকে আইন অনুমোদন করে না। আইনকে বিকৃত করে এনকাউন্টার করা হয়।’ আইপিসির ১০০ ও সিআরপিসির ৪৬ নম্বর ধারা (BNS-এর ৩৮ ও ৪৩ নম্বর ধারা) উল্লেখ করে নজরুল জানান, এই দু’টি ধারা ‘বিকৃত করে’ এনকাউন্টার করা হয়।
বারুইপুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নজরুল জানান, বেশ কিছু ফুটেজ এসেছে, যেখানে দেখা গিয়েছে পুলিশের সামনেই এক অভিযুক্ত আরেক অভিযুক্তের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। সেখানেই অন্য এক অভিযুক্তের নাম উঠে আসছে। সেই ভিডিয়ো কেন বাইরে এল? পুলিশের শারীরিক ভাষায় সঙ্গত নয়। নজরুল আরও বলেন, ‘প্রভাস ঘটনাস্থল দেখিয়ে দিয়েছে, তাকে মারা হচ্ছে, তাকে টোটোতে চাপিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এই জায়গাগুলিতে কেন ভিডিয়োগ্রাফি করা হলো? এই জন্যে নয়তো যেখানে দুই অভিযুক্ত নাকি পুলিশের হাতে দেওয়া হলেও তারা পালিয়ে গিয়েছিল বা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। তারা পালিয়ে গেলেও সেটা অপরাধ। সেখানে আইনের ধারায় মামলা করা হয়েছে কি?’ যদিও এনকাউন্টারের বিরোধিতা করে প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন।
যদিও ‘এনকাউন্টার’কে স্বাগত জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট তিনি। এই ঘটনার পরে নির্যাতিতার বাবা বলেছেন, ‘পুলিশের উপর আমাদের পুরো আস্থা আছে, সরকারের উপরও ভরসা আছে। সিএম যেমন কথা দিয়েছেন আমাদের, সে ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’