• মাঝেই মাঝেই কেন মাঠের মধ্যে থুতু ফেলেন খেলোয়াড়রা? কী লাভ হয় এতে?
    এই সময় | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • ফিফা জ্বরে ভুগছে গোটা বিশ্ব। বড় দলগুলোর পাশাপাশিই নজর কেড়েছে ইজিপ্টের মতো ছোট দলগুলিও। গোল, দুরন্ত সেভ কিংবা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পাশাপাশি দর্শকদের নজরে পড়ে আরও একটি বিষয়। অনেক ফুটবলারই ম্যাচ চলাকালীন বার বার মাঠে থুতু ফেলেন। অনেকেই হয়তো ভাবেন, ক্লান্তির কারণেই এমনটা হয় বা শুধুই অভ্যাস। কিন্তু শুধুই কি তাই? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ।

    কেন বার বার থুতু ফেলেন প্লেয়াররা?
    ফুটবলে যথেষ্ট শারীরিক পরিশ্রম হয়। দীর্ঘ সময় দৌড়ানো, স্প্রিন্ট করা এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার ফলে খেলোয়াড়রা নাকের বদলে মুখ দিয়েই বেশি শ্বাস নেন। এতেই মুখ দ্রুত শুকিয়ে যায়। মুখ শুকিয়ে গেলে লালা ঘন ও আঠালো হয়ে ওঠে। সেই অস্বস্তি দূর করতেই অনেকে লালা গিলে না ফেলে থুতু হিসেবে তা বাইরে ফেলেন।

    শরীরে কী পরিবর্তন হয়?
    হাই ইন্টেন্স কোনও অ্যাক্টিভিটি বা ব্যায়াম করলে শরীরের স্নায়ুতন্ত্র 'ফাইট অর ফ্লাইট' অবস্থায় চলে যায়। এই সময় শরীরে পাতলা লালার বদলে প্রোটিন ও মিউকাস সমৃদ্ধ ঘন লালা বেশি তৈরি হয়। ফলে মুখে আঠালো ভাব তৈরি হয়।

    এ ছাড়া ম্যাচ চলাকালীন অনেক ফুটবলার কার্বোহাইড্রেট ও চিনিযুক্ত স্পোর্টস ড্রিঙ্ক পান করেন। এগুলির কিছু অংশ মুখে থেকে যাওয়ায় লালা আরও ঘন অনুভূত হতে পারে। শীতের আবহাওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ে, কারণ ঠান্ডায় খেলোয়াড়রা মুখ দিয়ে বেশি শ্বাস নেন। এতে মুখ আরও দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং থুতু ফেলার প্রবণতা বেড়ে যায়।

    এতে কি খেলার পারফরম্যান্স বাড়ে?
    থুতু ফেললে কোনও ফুটবলারের গতি, শক্তি বা দক্ষতা সরাসরি বাড়ে না। তবে এতে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। ঘন লালা বা গলায় জমে থাকা মিউকাস বেরিয়ে গেলে অনেকেরই শ্বাস নিতে সুবিধা হয় এবং অস্বস্তি কমে।

    মনোবিজ্ঞানীরাও মনে করেন, খেলোয়াড়দের অনেকেরই কিছু নির্দিষ্ট রুটিন থাকে, যা তাঁদের মানসিক ভাবে স্বস্তি দেয় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। কারও কারও ক্ষেত্রে থুতু ফেলা সেই ব্যক্তিগত অভ্যাস বা রুটিনেরই একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

    স্বাস্থ্যগত দিক থেকে কতটা নিরাপদ?
    থুতু ফেলার বিশেষ কোনও বড় উপকারিতা নেই। তবে ঘন লালা বা অতিরিক্ত মিউকাস বেরিয়ে গেলে খেলোয়াড়দের মুখ ও গলায় কিছুটা আরাম লাগে। যদিও এটি শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন রোধ করে না।

    তবে জনসমক্ষে থুতু ফেলা মোটেই ভালো অভ্যাস নয়। লালার মাধ্যমে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু ছড়াতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই কারণেই মাঠে অপ্রয়োজনীয় থুতু ফেলা নিয়ে কড়া নিয়ম আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। তাই ফুটবলারদের এই আচরণ অদ্ভুত মনে হলেও, আসলে এটি দীর্ঘক্ষণ হাই ইন্টেন্স খেলার সময় শরীরে হওয়া স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনেরই একটি প্রতিক্রিয়া।
  • Link to this news (এই সময়)