এই সময়, বর্ধমান: বিকল্প উপায়ে ঘুরে দাঁড়াবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ব্যর্থ প্রকল্প’ বর্ধমানের মিষ্টি হাব। রাজ্যের বিজেপি সরকার মিষ্টি হাবের বিশাল ভবনে বিকল্প শিল্পের পরিকল্পনা নিয়েছে।
কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে ফুড প্রসেসিং ইউনিট গড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রাইস ইউনিট, পোট্যাটো হাব গড়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে। রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এমনই আশার কথা শুনিয়েছেন। ফলে বন্ধ থাকা মিষ্টি হাব নতুন ভাবে চাঙ্গা হতে চলেছে।
রাজ্যে পালাবদলের পরে শিল্প বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে। সরকারি পড়ে থাকা জমি ব্যবহার করে নতুন শিল্প সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে রাজ্য সরকার। কাটোয়ার প্রস্তাবিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। এনটিপিসি-র হাতে রয়েছে প্রায় ৬০০ একর জমি। সেই জমিতেও বড় শিল্প গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। এ বার বর্ধমানের মিষ্টি হাব ভবন নিয়েও শুরু হয়েছে পরিকল্পনা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ হিসেবে মিষ্টি হাব গড়েছিলেন। ২০১৭–তে বর্ধমানের বাম চাঁদাইপুরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের দুর্গাপুরমুখী লেনের পাশে তৈরি হয় মিষ্টি হাব। ওই বছরের এপ্রিলে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। কিন্তু চালু হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই ধুঁকতে শুরু করে সেই মিষ্টি হাব। দোতলা বিশাল ভবনে ৩০টি ঘর রয়েছে। চালু হয়েও একে একে বন্ধ হয়ে যায় সীতাভোগ, মিহিদানা, কাটোয়ার পরানের পান্তুয়া থেকে ল্যাংচার দোকানগুলি।
অভিযোগ, পরিকল্পনার ঘাটতিতেই এই প্রকল্প সাফল্য পায়নি। চালু হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই একে একে ঝাঁপ বন্ধ হতে শুরু করে দোকানগুলির। একটা সময়ে সেখানে উন্নত প্যাকেজিং, প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে মিষ্টি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের তরফে। খড়্গপুর আইআইটি-র মাধ্যমে প্রকল্প তৈরি থেকে কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। কিন্তু কোনও কিছুই বাস্তবায়িত করতে পারেনি আগের সরকার। বছর পাঁচেক ধরে মিষ্টি হাবের বিশাল ভবন পরিণত হয়েছে ভূতুড়ে বাড়িতে। সেখানেই নতুন ভাবে শিল্পোদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে নতুন সরকার।
রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার শিল্পে জোয়ার আনছে। রাজ্যের মূল লক্ষ্য শিল্প আসুক, কর্মসংস্থান হোক। সরকারি জায়গা মানুষের কাজে ব্যবহার করা হবে। এখানে ফুড প্রসেসিং ইউনিট গড়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাইস ইউনিট বা পোট্যাটো হাব গড়ার ভাবনাও রয়েছে। দ্রুত তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।