• এখনও মেলেনি বিচার, এনকাউন্টার চাই! অপেক্ষায় বিরক্ত কিশোরীর স্বজন
    এই সময় | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: মাসের পর মাস কেটে গিয়েছে। ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে বিচারের জন্য অপেক্ষা। অভিযুক্তদের দ্রুত সাজা চাইছে নির্যাতিতাদের পরিবার। এই সাজা এনকাউন্টারে হলেও আপত্তি নেই!

    বারুইপুরের মতো মালদাতেও খুন, ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এনকাউন্টার চাইছে নির্যাতিতাদের পরিবার। ২০২৪-এর ২৯ জানুয়ারিতে ইংরেজবাজার শহরের বালুরচর এলাকা ১১ বছরের বালিকা সৃষ্টি কেশরীকে মুণ্ডুচ্ছেদ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই মামলায় এখনও সাজা হয়নি।

    বারুইপুরের এনকাউন্টারের ঘটনায় সাধুবাদ জানিয়েছেন মৃতার বাবা মনোজ কেশরী। পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর মেয়ে খুনের ন্যায় বিচারের জন্য আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, 'পারিবারিক গোলমালে সেইদিন মেয়েকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়েই নৃশংস ভাবে খুন করেছিল প্রতিবেশী যুবক সনু কেসরী। তারপর থেকে এখনও সেই মামলা চলছে।'

    ইংরেজবাজার থানা এলাকায় গত সোমবার নাবালিকাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও বুধবার ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। যদিও পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন অসুস্থ ওই নাবালিকার বাড়িতে তদন্তে যায় ফরেন্সিক দলের চার প্রতিনিধি। মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন ওই নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পুরাতন মালদায় একটি ইটভাটায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুন করার অভিযোগ উঠে এক দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।

    এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই মামলা এখনও চলছে। মানিকচক এবং বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায় পৃথক ভাবে গত ২০২৪-এর সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সব ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলেও কেউ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কেউ এখনও মালদা জেলা সংশোধনাগারে বিচারাধীন।

    সব ক্ষেত্রেই নির্যাতিতার পরিবার বারুইপুরের মতো এনকাউন্টারের দাবি তুলেছেন। তবে বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেত্রী মৌসুম নূর বলেন, 'বারুইপুরের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তবে পুলিশ যে এনকাউন্টার করেছে, সেটা মানা যাচ্ছে না। আমাদের দেশের একটা আইন আছে। উত্তরপ্রদেশের কালচার দেখতে পাচ্ছি বাংলায়। যাই করা হোক সংবিধান মেনেই করা হোক।'

  • Link to this news (এই সময়)