সংবাদদাতা, খড়্গপুর: খড়্গপুর শহরের নামকরা দাবাড়ুর বাড়িতে চুরির ঘটনায় শোরগোল। শহরের পুরাতনবাজার এলাকায় মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটে। ওই এলাকারই বাসিন্দা, বছর কুড়ির প্রেরণা ঘোষ খড়্গপুর তথা জেলার এক খ্যাতনামা দাবাড়ু। এক সপ্তাহের জন্য জম্মুতে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রেরণা। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা মৌসুমী ঘোষ। ফলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরের তালা ভেঙে আলমারি থেকে লক্ষাধিক টাকার সোনাদানা চুরি করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ওদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে মাথায় হাত পড়ে প্রেরণার মা মৌসুমীদেবীর। সঙ্গে সঙ্গেই খড়্গপুর টাউন থানার দ্বারস্থ হন তাঁরা। বুধবার বিকেলে টাউন থানার আধিকারিকরা জানান, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে। দ্রুত কিনারা হবে চুরির। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই চোরদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, যে কোনো ধরনের অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। কাউকেই রেয়াত করা হবে না। গত দু’দিনে খড়্গপুর শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে ১২ জন দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রেরণার বাবা নেই। খড়্গপুর শহরের পুরাতনবাজার এলাকায় একতলা ছোটো বাড়িতে মায়ের সঙ্গে ভাড়া থাকেন প্রেরণা। বাড়িতে তালা লাগিয়ে জম্মুতে গিয়েছিলেন তাঁরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে মৌসুমী দেবী দেখেন বাড়ির দরজার তালা ভাঙা। ঘর লণ্ডভণ্ড। আলমারিও ভাঙা। এরপরই তিনি দেখেন আলমারির লকারে থাকা সোনার দু’টি বালা ও একটি হার উধাও! মাথায় হাত পড়ে যায় তাঁদের। ঘটনার পরই খড়্গপুর টাউন থানায় অভিযোগ জানান মৌসুমীদেবী। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। উল্লেখ্য, হঠাৎ করেই চুরি-ছিনতাই বেড়ে গিয়েছে মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরে। দু’দিন আগেই মেদিনীপুর শহরের একটি সরকারি আবাসনে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। তার কয়েকদিন আগে মেদিনীপুরের শরৎপল্লি এলাকায় ব্যবসায়ীকে মারধর করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। গুলিও চলে বলে অভিযোগ। গত ২১ জুন ঠিক একই ঘটনা ঘটে খড়্গপুর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেবলপুর গোয়ালাপাড়ায়। যদিও, ওই ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতি ক্ষেত্রেই পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করছে। তা সত্ত্বেও আচমকাই দুই শহরে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত স্থানীয়রা।