সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: সাঁতুড়ি ব্লকের বড়ন্তি (রামচন্দ্রপুর) জলাধার এলাকায় সরকারি জমির একাংশ (বন ও সেচদপ্তরের জমি) দখল করে এবং আদিবাসীদের দেওয়া পাট্টা জমির উপর বেশ কয়েকটি রিসর্ট তথা গেস্ট হাউস গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল সরকারের সময় ওইসব গেস্ট হাউস তৃণমূল নেতা ও আধিকারিকদের মদতে গড়ে ওঠে। এলাকার মানুষ সবকিছু জেনেও ঝামেলা এড়াতে চুপ করে থেকেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরেই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। এলাকাবাসীরা গেস্ট হাউসগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একটি সূত্রের খবর, সরকার পরিবর্তনের পরেই বনদপ্তর নড়েচড়ে বসেছে। ইতিমধ্যে দপ্তরের তরফ থেকে গোপনে জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বতন তৃণমূল সরকার সাঁতুড়ির বড়ন্তি (রামচন্দ্রপুর) জলাধারকে কেন্দ্র করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলেছে। জলাধরকে কেন্দ্র করে একটি সরকারি গেস্ট হাউস তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, লাইট, পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেট সহ এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। সেই জলাধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছু বেসরকারি গেস্ট হাউস বা রিসর্ট গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি রিসর্ট বেআইন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার এক রিসর্ট মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এমন গেস্ট হাউসও আছে যার মূল রাস্তাটি বন ও সেচদপ্তরের জমির উপর। আবার কিছু গেস্ট হাউস সরকারি জায়গার ওপর তৈরি হয়েছে। আদিবাসীদের পাট্টা জমি কোনো ভাবেই অন্য কাজে লাগানো যায় না, তা সত্ত্বেও কিছু আদিবাসীকে ভুলিয়ে তাঁদের জমি লিজ নিয়ে গেস্ট হাউস তৈরি হয়েছে। নিজস্ব জায়গা ও রাস্তা না থাকলে ব্যাঙ্ক থেকে লোন এবং কনভারশন হয় না। তারপরেও ওই গেস্ট হাউসগুলি কীভাবে হল, তা ভেবে আমরা হতবাক।
বাসিন্দারা বলেন, এলাকার মানুষের কোনো উন্নয়ন হয়নি। জমি দিয়ে বাইরের লোকেদের উন্নতি হয়েছে। মানুষের অভিযোগ থাকলেও যারা তদন্তের দায়িত্বে ছিল তারাই কিছু করত না। ‘প্রকৃতি বাঁচাও, আদিবাসী বাঁচাও’ মঞ্চের দক্ষিণবঙ্গের আহ্বায়ক রাজেন টুডু বলেন, তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি যে গ্রামসভার পূর্বানুমতি ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে বনভূমি দখল করে বনাঞ্চল এলাকায় রিসর্ট নির্মাণ হয়েছে। আগামী দিন আরও নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে। অথচ আদিবাসীদের নিত্য প্রয়োজনীয় বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে গেলে বিভিন্ন হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। শুধু তাই নয়, আদিবাসীদের পাট্টা জমি ও সেচদপ্তরের জমির উপর রিসর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। অবিলম্বে সকল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নতুন সরকারের কাছে দাবী জানাই।
সাঁতুড়ি ব্লকের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি তথা বিজেপির জেলা নেতা অরূপ আচার্য বলেন, বেশ কিছু রিসর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আমরা সমস্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছি। এবং সমস্ত তথ্য জোগাড় করে নির্দিষ্ট দপ্তরে জমা করব। বড়ন্তি জলাধার। -নিজস্ব চিত্র