• হুগলিতে পঞ্চায়েতের পরিষেবা লাটে, দিন দিন ভোগান্তি বাড়ছে বাসিন্দাদের
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সামাজিক সুরক্ষার একগুচ্ছ প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখতে হচ্ছে পঞ্চায়েত কর্মীদের। বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অন্যান্য কাজ শিকেয় উঠেছে তাঁদের। ফলে পঞ্চায়েতের স্বাভাবিক কাজ থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা সবই অথই জলে। হুগলির যে কোনো পঞ্চায়েত এলাকায় গেলে শোনা যাচ্ছে এই কথা। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, সমস্যা বিকট আকার নিলেও পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে উপপ্রধান কেউই এনিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তাঁদের যেমন সরকারি রোষানলে পড়ার ভয়, তেমনই ভয়ে মুখ বুজে কাজ করছেন পঞ্চায়েত কর্মীরা। তবে তাঁরা নীরব থাকলেও বিরোধের সুরও শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবার আইসিডিএস কর্মীদের একাংশ অন্নপূর্ণা যোজনার তথ্য যাচাইয়ের কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে ধনেখালি ব্লকে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

    সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন জেলা সদরের চুঁচুড়া-মগরা ব্লকের এক পঞ্চায়েত প্রধান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রধান বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনা, আবাস প্রকল্প, বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা, বিশেষভাবে সক্ষম এবং তপসিলি জাতি, উপজাতি ভাতা সরকারি তরফে দেওয়া হয়। সেই সব প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে হচ্ছে পঞ্চায়েত কর্মীদের। পঞ্চায়েত কর্মীরা এই কাজের বাইরে কার্যত আর কোনো কাজ করতে পারছেন না। পঞ্চায়েত থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা, বৈঠক কিছুই করা যাচ্ছে না। মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এই সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন এক পঞ্চায়েত কর্মী। তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে অনেক সময় লাগছে। কারণ, নানারকম জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হচ্ছে কোথাও কোথাও। তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অধিকাংশ সময় অসন্তোষ প্রকাশ করছে। ফলে বাড়তি সময় লাগছে। এরপর আর পঞ্চায়েতের নিত্যদিনের কাজের জন্য লোক পাওয়া যাচ্ছে না। হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, সরকারি নির্দেশ মেনে কাজ করতে হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এর বাইরে কিছু বলার নেই। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, সমস্যা তো পূর্বতন সরকার তৈরি করেছে। তারা জাল উপভোক্তা করেছে, পঞ্চায়েতে কর্মী নিয়োগ করেনি। আবার পঞ্চায়েতের কর্মসংস্কৃতি খারাপ করেছে আগের সরকার। তার জন্যই এখন সমস্যা হচ্ছে। তবে সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে‌ই হবে।

    পঞ্চায়েতগুলি সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, বাড়ি তৈরির ছাড়পত্র সহ একাধিক কাজ পঞ্চায়েত থেকে হয়। কর্মীরা অন্যত্র ব্যস্ত থাকায় নাগরিকদের ভোগান্তি শুরু হয়েছে। আবার, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের টাকায় উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা তৈরির কাজও পঞ্চায়েতের কর্মীদের করতে হয়। সেই কাজও আটকে গিয়েছে। সব মিলিয়ে হুগলির পঞ্চায়েতগুলিতে থমকে গিয়েছে স্বাভাবিক কাজকর্ম।
  • Link to this news (বর্তমান)