মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও পুজোর আগে হকার উচ্ছেদ, শহরে ফের বুলডোজার
বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের হকার উচ্ছেদের জন্য বুলডোজারের আগমন। বুধবার এই অভিযোগ তুলেছেন সৈয়দ আলি আমির অ্যাভিনিউ’য়ের হকাররা। এদিন দুপুরে বালিগঞ্জের মর্ডান স্কুলের সামনে আচমকা বুলডোজার দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হকাররা। অনেকে কান্নাকাটি শুরু করেন। অভিযোগ, কোনো নোটিস ছাড়াই বুলডোজার এসেছে দোকান ভাঙতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিপিএম নেতৃত্ব। তাঁদেরও অভিযোগ, কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দুর্গাপুজো পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ বন্ধ থাকবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বুলডোজার ভাঙতে চলে এসেছে। কোনো নোটিস না দিয়ে হকার কার্ড থাকা সত্ত্বেও দোকান ভাঙতে চলে এসেছে। পুনর্বাসন ছাড়া কোনোভাবেই হকার উচ্ছেদ করা যাবে না।
সিপিএম নেতা সুশঙ্কর মণ্ডল, সৈনিক সূর সহ স্থানীয় নেতৃত্ব কড়েয়া থানা পৌঁছন। হকার ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অভিযোগ, ওই রাস্তায় প্রায় পঞ্চাশটার মতো দোকান আছে। তার মধ্যে কয়েকটি ভাঙা হয়েছে। বাকি দোকান ভাঙা ঠেকানো গিয়েছে। সিপিএমের যুব নেতা সৈনিক সুর বলেন, আমরা সেখানে গিয়ে পুলিশের কাছে নোটিস দেখতে চাই। পুলিশ বলে এই কাজ কর্পোরেশন করেছে। কিন্তু কর্পোরেশনের আধিকারিকদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেন ওটা পুলিশ করছে। আমরা বলেছি, নোটিস ছাড়া উচ্ছেদ করা চলবে না। কারণ দোকান ছাড়া তাঁদের রুজি-রুটির কোনো ব্যবস্থা নেই। কেউ চায়ের দোকান, বাইক সারানোর দোকান, ছোটো মুদিখানার চালান। সকলে সত্পথে খেটে খান। হকার এবং এলাকার মানুষদের প্রতিরোধে বুলডোজার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদিও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাম নেতৃত্বের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী আপাতত উচ্ছেদ স্থগিত রাখার ঘোষণার পরও এই কাজ হচ্ছে। তাই সজাগ থাকতে হবে। তাঁদের হুঁশিয়ারি, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাব। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করলে আমরা আইনের দ্বারস্থ হব। এরপর রাতে বামেরা কড়েয়া থানায় অভিযোগ জানাতে যান বলে খবর।
অন্যদিকে বুধবার ভোররাতে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ঢাকুরিয়া স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সেখানকার হকারদের বক্তব্য, তাঁদের কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা কেউই মালপত্র সরাতে পারেননি। এদিন সকালে খবর পেয়ে স্টেশনে ছুটে আসেন। তারপর দেখতে পান সমস্ত দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। হকারদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই স্টেশনে তাঁরা দোকান চালাচ্ছেন। পূনর্বাসন ছাড়া এভাবে উচ্ছেদের ফলে সংসার কীভাবে চলবে, সেই চিন্তায় তাঁদের ঘুম উড়ে গিয়েছে।