• ৭০ সেকেন্ড, যানজট কমাতে মিশন চিংড়িঘাটা
    বর্তমান | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিংড়িঘাটায় নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো রুটের বাকি থাকা কাজ শেষ করতে নতুন একটি বাই-লেন তৈরি করা হয়। তা না হলে ব্যস্ত ই এম বাইপাসে সুষ্ঠুভাবে যান নিয়ন্ত্রণ করে মেট্রোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হত। মেট্রোর সেই কাজ এখন শেষের পথে। কিন্তু বাইপাসের পাশে যে বাই-লেন তৈরি করা হয়েছিল, তার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি! বরং, ওই লেন চালু থাকলে প্রভূত সুবিধা হচ্ছে বাইপাসের নিত্যযাত্রীদের। মেট্রোর কাজ শুরুর আগে বাইপাসের উল্টোডাঙামুখী ফ্ল্যাঙ্কে অফিস টাইমে সিগন্যালের স্টপেজ টাইম ছিল সর্বোচ্চ ২ মিনিট (নির্দিষ্টভাবে ১৩৫ সেকেন্ড)। কিন্তু বাই-লেন সচল থাকলে সেই স্টপেজ টাইম কমে হচ্ছে কমে হচ্ছে মাত্র ৭০ সেকেন্ডে। অর্থাৎ, ২ মিনিটের জায়গায় গাড়ি, বাইক, ট্যাক্সিকে সিগন্যালে দাঁড়াতে হচ্ছে ৭০ সেকেন্ড। সেই সঙ্গে বাইপাসের উপর যানবাহনের চাপও কমছে। তাই চিংড়িঘাটার ‘কুখ্যাত’ যানজটে রাশ টানতে মেট্রোর কাজের পরও বাই-লেনটি চালু রাখার পরিকল্পনা করছে লালবাজার। ক্যাপ্টেন ভেড়ির সামনে থেকে মেট্রো ব্রিজ বরাবর চিংড়িঘাটা পর্যন্ত বিস্তৃত বাই-লেনটি। মূলত বাস ও পণ্যবাহী গাড়িগুলি সেই রাস্তা দিয়ে পাঠাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। তাতে আদৌ কতটা চাপ কমছে বাইপাসে? সমীক্ষা চালিয়েছিল লালবাজার। সূত্রের খবর, সিগন্যালের স্টপেজ টাইম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসার তথ্য উঠে এসেছে। 

    কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেট্রোর কাজ শেষ হলে বাই-লেনটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। সাময়িকভাবে যানজট কমাতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ ও কেএমডিএ’র যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয় প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তা। বাই-লেন ধরে মেট্রোপলিটন থেকে সরাসরি চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে পৌঁছে যাওয়া যায়। মূলত, সরকারি, বেসরকারি বাস ও মিনিবাস, অফিসযাত্রীদের শাটল বাস, অ্যাপ নির্ভর বাসগুলিকে এই পথে ঘোরানো হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ জানাচ্ছে, এতে বাইপাসের উপর চাপ কমেছে। বড়ো গাড়িগুলি বাই-লেনে ঢুকিয়ে দেওয়ায় ছোটো গাড়ি, বাইক, স্কুটার বাড়তি সময় পাচ্ছেন। মূল বাইপাসে উল্টোডাঙামুখী ফ্ল্যাঙ্কে সিগন্যাল ‘লাল’ থাকলে বাই-লেনের সিগন্যাল ‘সবুজ’ করা হচ্ছে। কমছে যানজট। 

    সেক্টর ফাইভের আইটি কর্মী রাজশ্রী চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘সকালের চেয়ে সন্ধ্যায় চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে আরও বেশি সমস্যা হয়। নিক্কো পার্ক, সুকান্তনগর থেকে চিংড়িঘাটা পৌঁছতেই লেগে যায় ৪০-৪৫ মিনিট।’  পুলিশ জানাচ্ছে, সেই দুর্ভোগ থেকেও মুক্তির উপায় বেরিয়েছে! রুবি মোড়মুখী যান চলাচল মসৃণ করতে মেট্রোপলিটন খাল থেকে সায়েন্স সিটি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার দীর্ঘ লেন তৈরি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের রোড মার্কিং শাখা জানাচ্ছে, ক্যাপ্টেন ভেড়ির সামনে থেকে মেট্রোপলিটন (রুবিমুখী ফ্ল্যাঙ্ক) পর্যন্ত একটি পৃথক লেন রয়েছে। কিন্তু, মেট্রোপলিটন ক্রসিং পেরলেই বাইপাস সংকীর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যার অফিসটাইমে দুই অভিমুখেই গাড়িঘোড়ার চাপ বেশি থাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের এক আধিকারিক বলেন, ‘এই জন্যই চিংড়িঘাটা থেকে বাইপাসের দুদিকে ফ্ল্যাঙ্কে যানজট এড়াতে ডুয়াল-রাউটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মিলছে সুফলও।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)