নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: নারী নিগ্রহ, শ্লীলতাহানি, বেআইনি অস্ত্র ব্যবসা, মাদক কারবার। একেবারে অপরাধের সিন্ডিকেট। আর তার সদস্য কারা? আনন্দ সরদার, প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সরদার। মূল ‘কান্ডারি’ অবশ্যই প্রথম দু’জন। বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত। এই কারবার মাসের পর মাস চালিয়ে গিয়েছে তারা। ছিল আরও সঙ্গী। কয়েকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে আনন্দরা। কিন্তু তাতেও বদল কিছু আসেনি। এলাকায় পরিচিতি তাদের একটাই—সমাজবিরোধী। তদন্তে নেমে বারুইপুর জেলা পুলিশ জানতে পেরেছে, টাকা নিয়ে মারধর, ভয় দেখানোর মতো অভিযোগও দেদার রয়েছে আনন্দ-প্রভাসের নামে।
প্রভাসের এনকাউন্টারের পর অন্য মাত্রা নিয়েছে বারুইপুর কাণ্ড। সিঁটিয়ে গিয়েছে বাকি অভিযুক্তরা। আর সেই আতঙ্কে ইন্ধন জোগাচ্ছে তাদেরই অপরাধের ইতিহাস। সেই সবই এবার খুঁড়ে বের করছে পুলিশ। তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পেরেছেন, সূর্যপুর স্টেশনের কাছে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় নিত্যদিন গাঁজার ঠেক বসাত আনন্দ। সঙ্গীরা তো বটেই, সেখানে হাজির থাকত বহিরাগত লোকজনও। গভীর রাত পর্যন্ত চলত মদ ও গাঁজার আসর। নিজেদের মধ্যে ঝামেলাও চলত লাগাতার। এমনকি একে অপরকে লক্ষ্য করে ছুরি পর্যন্ত চালিয়েছে। কিন্তু ডোবার ধারের ওই নির্জনতা পেরিয়ে পুলিশের কান পর্যন্ত খবর পৌঁছাত না। এই ঠেক চালাতে গিয়েই গাঁজা, চোলাই ও বেআইনি মদের কারবার শুরু করে আনন্দ ও প্রভাস। রেললাইনের ধারে আল বেয়ে নেমে যাওয়া ডোবার ধারেই। সেখান এসে মাদক কারবারিরা গাঁজা ও মদ কিনে নিয়ে যেত বলে জানা যাচ্ছে। গাঁজা ও মদের ঠেক চালানোর অভিযোগে বেশ কয়েকবছর আগে বারুইপুর জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয় দু’জন। পরে আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পায়। তারপরও কারবার বন্ধ হয়নি। উলটে এই সিন্ডিকেটে যোগ হয় বেআইনি অস্ত্রের ব্যবসাও। চোরাপথে দেশি বন্দুক কিনেছিল আনন্দ। সেটি গাঁজার ঠেকে রাখত। ঝামেলা হলেই তা উঁচিয়ে দিয়ে ভয় দেখাত। এলাকায় তাকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে বলেও স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন। এরপর নিজেই অস্ত্র কারবার শুরু করে। নির্জন জায়গায় ঝোপের ধারে অস্ত্র লুকিয়ে রাখত। এখান থেকে বিক্রি করত ‘কাস্টমার’দের। স্থানীয়ভাবে বানানো অস্ত্রই থাকত তার ‘স্টোরে’। সূত্রের খবর, অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার হয়েছিল দু’জনেই। তবে আনন্দ ও প্রভাসের বেআইনি কার্যকলাপের সিন্ডিকেটের বিস্তার সূর্যপুরেই সীমাবদ্ধ ছিল। তদন্তে এও উঠে এসেছে, এলাকায় বিভিন্ন তরুণী-যুবতীদের বিরক্ত করত তারা। পিছু নেওয়া, কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি থেকে শুরু করে শ্লীলতাহানি, বাদ যায়নি কিছুই।