Big Breaking: আরও বিপাকে প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এ বার তাঁকে ধরার জন্য এসটিএফ-এর সহযোগিতা চাইল বিধাননগর পুলিশ। বুধবার রাতে নিউ টাউনে বিডিওর বাড়িতে এসটিএফ-সহ বিশেষ তদন্তকারী দল অভিযান চালায় বলে খবর। স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন। সেই মামলার তদন্ত চলছে।
নিউ টাউনে বিরাট বাড়ি রয়েছে প্রশান্ত বর্মনের। বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা, সাইবার ক্রাইম অফিসাররা বুধবার রাতে সেখানে তল্লাশি চালায় বলে খবর। অভিযোগ, দত্তাবাদ থেকে অপহরণ করে এই বাড়িতেই আনা হয়েছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে। এখানেই তাঁকে খুনেরও অভিযোগ ওঠে। পরে সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে খালের ধারে ফেলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় নাম জড়ায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। তিনি এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত। তিনি খুনের ঘটনার সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগ আজকের নয়। গত বছরের ২৯ অক্টোবর সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার (৪৮) দেহ মেলে নিউ টাউনের যাত্রাগাছি খাল পাড় এলাকা থেকে। নিহত স্বপনের স্ত্রী থানায় অভিযোগ করেন, বিডিও প্রশান্ত বর্মন এবং তাঁর সঙ্গীরা মিলে স্বামীকে খুন করেছেন। বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে প্রশান্তর গাড়ির চালক রাজু ঢালি, ঠিকাদার তুফান থাপা, কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকার, বিডিওর আরও একটি গাড়ির চালক গোবিন্দ সরকারকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু সে সময়ে একবারও প্রশান্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়নি।
এর পরে বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা দপ্তর মামলার তদন্তভার নিলেও ২৬ নভেম্বর বারাসত জেলা আদালতে শর্ত সাপেক্ষে আগাম জামিন পেয়ে যান প্রশান্ত। মামলা উচ্চ আদালতে গড়াতেই গা ঢাকা দেন তিনি। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ওই মামলা সুপ্রিম কোর্টে গেলে বিচারপতি তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে চার মাস কাটিয়ে দেন প্রশান্ত। তাঁকে নাকি খুঁজেই পাচ্ছিল না রাজ্য পুলিশ!
গত জুনে নিউ টাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত বর্মন। সেই মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে যান প্রশান্ত। বার বারই কোনও না কোনও ভাবে ছাড় পেয়ে গিয়েছেন প্রশান্ত। তবে এ বার নতুন করে তাঁর ফাইল খোলা হচ্ছে।