• স্বাস্থ্যভবনে কন্ট্রোল রুম, সব হাসপাতালে চলবে নজরদারি, ঘুরে দেখে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘দালালচক্র মুক্ত হবে’
    এই সময় | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • কন্ট্রোল রুম তৈরি হলো স্বাস্থ্যভবনে। এ বার সেখান থেকেই রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালে নজরদারি চালানো হবে। বৃহস্পতিবার কন্ট্রোল রুম ঘুরে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালগুলিকে দালালচক্র থেকে মুক্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত।

    তৃণমূল জমানায় নানা সময়ে সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা নিয়ে বেশ কয়েক বার সরবও হয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, বাস্তবে সেই সমস্যার সমাধান হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পরে নতুন সরকার প্রথম থেকেই দালালচক্র বন্ধ করার কথা বলে এসেছে। সেই লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যভবন থেকে কড়া নজরদারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে ভালো পরিবেশের জন্য নজরদারি দরকার। হাসপাতালগুলিতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা যথেষ্টই অভিজ্ঞ। তাঁদের শুধু কাজ করার পরিবেশ করে দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সরকার নিরাপত্তা দেবে।’

    কিন্তু কী ভাবে কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি চালিয়ে দালালচক্র আটকানো হবে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘হাসপাতালে কোনও এক ব্যক্তিকে যদি পর পর ২ দিন ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়, তা হলেই বোঝা যাবে। কোনও রোগী নিশ্চয়ই পর পর ২ দিন আল্টাসোনোগ্রাফি করতে আসবেন না।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও দেখেছেন। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নজরে রেখে কাজকর্ম করছেন জানিয়ে তার প্রশংসাও করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও পারদর্শী। তাঁদের সঠিক ভাবে গাইড করতে হবে। সরকার সেই চেষ্টাই করছে।’

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠী যে ২০০০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করতে চলেছে, তার উদ্বোধনও শীঘ্রই হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০০০ বেডের হাসপাতাল হচ্ছে। তার মধ্যে এক হাজার বেড শুধু গরিব মানুষের জন্যই বরাদ্দ থাকবে।’ শুধু তা-ই নয়, রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালেই শয্যা বাড়ানোর কথা ভেবেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুজোর মধ্যে আরও ২০০-২৫০ শয্যা বাড়বে এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে আইসিইউ বেডের সংখ্যা ১১২ থেকে বেড়ে হবে অন্তত ২০০। হাসপাতালগুলিতে ট্রমা কেয়ার পরিষেবার বহর নিয়ে সন্তুষ্ট নন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘তারাতলার বিপর্যয় দেখিয়ে দিয়েছেন, আমাদের ট্রমা কেয়ার পর্যাপ্ত নয়। এক মিনিটে যাতে ২৫০ জনকে পরিষেবা দেওয়া যায়, সেই রকম ট্রমা কেয়ার বানাতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবকে বলেছি, জায়গা চিহ্নিত করতে।’

  • Link to this news (এই সময়)