চাকরির নামে টাকা লক্ষ নেওয়ার অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদ প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়াকে
News18 বাংলা | ০৯ জুলাই ২০২৬
সেচ দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগের তদন্তে বৃহস্পতিবার সবং থানায় হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া। খবর লেখা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে থানায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেচ দফতরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে সবং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
আদালতের নির্দেশ এবং তদন্ত প্রক্রিয়া মেনে বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ সবং থানায় হাজির হন তিনি। থানায় পৌঁছনোর পর থেকেই তদন্তকারী অফিসাররা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে বা তদন্তে কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সম্প্রতি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দল ছেড়েছিলেন সবং-এর পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। তিনি ছিলেন একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু, পালাবদলের হাওয়ায় গেরুয়া ঝড়ে কার্যত উড়ে গিয়েছেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। নিজের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “আমি ক্যাপ্টেন আমি দায়ী, আমি এই হার,জনগণের রায় মাথা পেতে নিলাম। কোথায় কোন ত্রুটি বিচ্যুতি হয়েছে কিনা তা পর্দার আড়ালে আলোচনা করে দেখছি।” পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেও তিনি বলেছিলেন, “উনিও মেদিনীপুরের ছেলে, আমিও মেদিনীপুরের ছেলে। আমি গর্ববোধ করি, একজন মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর প্রকল্প যেগুলো ঘোষণা করেছেন সেগুলো বাস্তবে রূপ দিক এবং সবং জুড়ে যে সন্ত্রাস চলছে সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।” পদ্মশিবিরের ডবল সেঞ্চুরির সুনামিতে কার্যত ধুয়ে গিয়েছে বাংলার বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর নাম। সেই তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানসও।