আগাম কোন সতর্কতা ছাড়াই টোটো ধরপাকড়ের অভিযোগ, বারাসাতে পরিষেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভে টোটো চালকরা। পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই জাতীয় সড়কে টোটো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশের ধরপাকড়ের প্রতিবাদে বারাসাতে টোটো পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। বারাসাত-টাকি রোডের শতদল ময়দানে একত্রিত হয়ে তাঁরা প্রশাসনের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আবেদন জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকে রাস্তায় নামতেই একের পর এক টোটো আটক করা হচ্ছে। এতে বহু চালকের রুজি-রোজগার কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁদের দাবি, যদি জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে প্রশাসনের উচিত বিকল্প ও নিয়মমাফিক চলাচলের পথ নির্ধারণ করে দেওয়া। রাস্তার একপাশের যাত্রীদের অপর প্রান্তে যাওয়ার জন্য মাঝপথে টোটো বদলাতে হবে সেক্ষেত্রে। ফলে দুর্ভোগ বাড়বে আখেরে যাত্রীদেরই।
টোটো চালকদের বক্তব্য, অধিকাংশই ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন এবং সেই টোটো চালিয়েই পরিবারের ভরণপোষণ করেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তে তাঁরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। পুলিশের ধরপাকড়ের ক্ষেত্রেও মানবিক আচরণ করার আবেদন জানান তাঁরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এদিনও বারাসাত শহরের বিভিন্ন রুটে টোটো পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। ফলে জেলা সদর শহরে যাত্রীদেরও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিক্ষোভকারীরা জানান, তাঁদের দাবি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রশাসন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেই আশাবাদী টোটো চালকদের।
আর এই পরিস্থিতির মাঝেই পায়ে চালানো ভ্যান পরিষেবায় যাত্রীদের যাতায়াত করতে দেখে, ভ্যানের হাওয়া খুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে টোটো চালকদের বিরুদ্ধে। যাত্রীরা বলছেন, হঠাৎ করে এমন ভাবে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় অফিস, স্কুল সহ চিকিৎসার প্রয়োজনে যাওয়া যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। এমনকি, বিকল্প হিসেবে পায়ে চলা ভ্যান এ যাত্রী পরিষেবা দিতে গেলেও ভ্যানের হাওয়া খুলে দেওয়া হচ্ছে, এ কোথাকার দাদাগিরি! প্রশাসনের বিষয়টি অবিলম্বে দেখারও আবেদন জানিয়েছেন অসহায় যাত্রীরা। এখন দেখার পরবর্তীতে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে এখন সেদিকেই তাকিয়ে জেলা সদর শহরের বাসিন্দারা।