• শরদও কি এনডিএ-তে যোগ দিতে চলেছেন? শিন্ডে সাক্ষাতে জল্পনা তুঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে
    এই সময় | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির অধিকাংশ সাংসদ দল ছেড়ে এনডিএ শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তা নিয়ে এমনিতেই সরগরম জাতীয় রাজনীতি। তার মধ্যেই শরদ পাওয়ারের এনসিপি নিয়েও নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সেই আবহে বৃহস্পতিবার এনডিএ শরিক এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে শরদের সাক্ষাৎ সেই জল্পনা আরও জলবাতাস দিয়ে দিল।

    আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, এই অধিবেশনে সংসদে সংবিধান সংশোধনী পেশ করতে পারে নরেন্দ্র মোদী সরকার। গত এপ্রিলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে কেন্দ্র যে নারী সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসের বিল নিয়ে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল, তা আবার পেশ হতে পারে সংসদে। তার আগে একের পর এক বিরোধী দলে ভাঙনের জেরে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছেই গিয়েছে এনডিএ।

    এখন জল্পনা শুরু হয়েছে, শরদের দলও কি এ বার এনডিএ-তে যোগ দেবে? যদি তা ঘটে, তা হলে সংবিধান সংশোধনী পাশ করাতে সরকারকে আর বিশেষ বাধার মুখে পড়তে হবে না বলেই অনুমান করা হচ্ছে। যদিও সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে এনসিপি। তারা জানিয়েছে, একনাথের সঙ্গে শরদের সাক্ষাৎ একেবারেই সৌজন্যমূলক।

    শরদ নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র নেতা জয়ন্ত পাতিল জানান, মহারাষ্ট্র-কর্নাটক সীমান্ত বিবাদ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সরকারি বৈঠকে যোগ দিতে বিধানসভায় গিয়েছিলেন শরদ। বৈঠক শেষে তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শরদের পক্ষে হেঁটে দলীয় বিধায়কদের ঘরে গিয়ে দেখা করা সম্ভব ছিল না। তা এড়াতেই একনাথের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কারণ একনাথের ঘর বিধানসভা থেকে বেরিয়ে একেবারে কাছেই। দলীয় সূত্রে খবর, শরদ যখন একনাথের ঘরে পৌঁছন, তখন উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। খবর পেয়ে তিনি পরে সেখানে যান। শাল-ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে স্বাগতও জানান। পরে ২ জনের কথা হয় প্রায় ১০ মিনিট। যদিও কী কথা হয়েছে, তা কেউই প্রকাশ্যে জানাননি।

    একনাথের সঙ্গে সাক্ষাতের পরেই শরদ শিবিরের এনডিএ-তে যোগ নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব শরদের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের সুবাদে দল ভাঙিয়ে তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে চান না। তাই বিজেপি নেতৃত্ব শরদের থেকে সরাসরি সমর্থনই চাইছেন। সেই লক্ষ্যে ‘দৌত্য’ও শুরু হয়েছে। আবার কারও কারও মত, শরদও রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি ছেড়ে সরাসরি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে চান না। তাই এখন মধ্যপন্থার খোঁজ চলছে। যদিও এ সবই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপি (এসপি)-র রাজ্য সভাপতি শশীকান্ত শিন্ডে। তিনি বলেন, ‘এনডিএ-তে যোগ দেওয়া বা অন্য কোনও দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনাই নেই আমাদের।’

  • Link to this news (এই সময়)