• বারুইপুর: ময়নাতদন্তের আগে ডিজিটাল এক্স-রে সিদ্ধান্ত
    আজকাল | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • গোপাল সাহা 

    চিকিৎসা জগতে সাধারণ মানুষের সঠিক চিকিৎসার জন্য শরীরের আভ্যন্তরীণ জটিল রোগ বা আঘাত চিহ্নিত করতে এক্স-রে করা হয়। যা বহুকালের চিকিৎসা পদ্ধতি। এবার সেই পদ্ধতি ব্যবহার করা শুরু হল মৃত মানুষের ক্ষেত্রেও। তবে চিকিৎসায় নয়, ময়নাতদন্তের পূর্বে ডিজিটাল এক্স-রে করে তবেই ময়নাতদন্ত করা হবে বলেই জানিয়েছে রাজ্যে স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসন। 

    স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে, বিশেষত কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে স্বচ্ছতার কারণে ও তদন্তের স্বার্থে ডিজিটাল এক্স-রে করে তবেই সেই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করবে। আর সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হল বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃতদেহের ক্ষেত্রে। প্রভাসকে এনকাউন্টারের পর তাঁর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পূর্বে এক্স-রে করে তাঁর দেহে গুলিবিদ্ধ স্থান ও ভিতরে গুলি আছে কিনা তা নির্ধারণ করে তারপর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পূর্বে ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে ভিডিওগ্রাফির ব্যবহার হয়েছে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে। 

    রাজ্যের ইতিহাসে এ এক নজিরবিহীন ঘটনা। বারুইপুরের এনকাউন্টারে নিহত প্রভাসের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের আগে ডিজিটাল এক্স-রে করা হয়। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে শরীরের ভিতরে বুলেট রয়েছে কি না এবং তার সঠিক অবস্থান কোথায়। হাসপাতাল সূত্র খবর, সঠিক ডকুমেন্টেশনের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাতে পরবর্তীকালে কেউ যেন না বলতে পারে যে মৃত্যুর পর শরীরে বুলেট ঢোকানো হয়েছে। একইসঙ্গে বুলেটের অবস্থান জানা গেলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের কাজও অনেক সহজ হয়ে যাবে। 

    প্রসঙ্গত, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান সহ দেশের একাধিক রাজ্যে এই নিয়ম চালু রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবার। বৃহস্পতিবার বারুইপুরের এনকাউন্টারে নিহত প্রভাসের মৃতদেহ শববাহী গাড়িটি কলকাতা মেডিকেল কলেজের ইডেন বিল্ডিংয়ের সামনে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় ছিল। পরে সেই মৃতদেহ ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল এক্স-রে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তারপর নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।  মূলত, ডিজিটাল এক্স-রে রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। এই প্রক্রিয়া তদন্তের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহযোগিতা করবে। কোনও ভুল থাকলেও সেটা খুব সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এই ডিজিটাল এক্স-রে করার কারণে। এমনটাই জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। 

    এ বিষয়ে রাজ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় আজকাল ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পূর্বে আমরা দেখেছি ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে ময়নাতদন্ত। এবার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিশেষত বুলেট ইনজুরি কারণে মৃত ব্যক্তির ডিজিটাল এক্স-রে করে তবেই ময়নাতদন্ত হবে। কারণ এতে ওই মৃতদেহে ক্ষতচিহ্ন-সহ শরীরের ভিতরের তথ্য আগেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। যা পুলিশের তদন্তে ও ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহযোগিতা হবে। তদন্তেও অনেক বেশি স্বচ্ছতা আনবে।”

    এই ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ময়নাতদন্তের পূর্বে ডিজিটাল এক্স-রে পদ্ধতির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁদের মতে, এতে ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।
  • Link to this news (আজকাল)