• রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন অস্ত্র বিজেপি সরকারের
    আজকাল | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • দীক্ষা ভুঁইয়া: ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে ধারাবাহিকভাবে সরব হয়েছে বিজেপি সরকার। সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জোরদার করতে বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রথম বৈঠকে বসছে মমতা ব্যানার্জির আমলের আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠী।

    বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে, তার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সেই ঘোষণার পর চলতি মাসেই রাজ্য মন্ত্রিসভা একটি বিশেষ মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়-সহ একাধিক মন্ত্রী।

    নবান্ন সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠকে শ্বেতপত্র তৈরির কাঠামো, বিভিন্ন দপ্তর থেকে নথি ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের সুপারিশ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন মিললেই শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    সরকারি সূত্রের দাবি, এই শ্বেতপত্রে পূর্বতন সরকারের আমলে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের কাছে এটি যেমন জবাবদিহির নথি, তেমনই বিরোধী তৃণমূলকে চাপে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক হাতিয়ারও হতে চলেছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর আগেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছেন। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পূর্বতন সরকারের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে সরকার শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। ফলে বৃহস্পতিবারের বৈঠককে শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (আজকাল)