• জয়েন্ট এন্ট্রান্স নিয়ে দারুণ খবর! জানালেন শুভেন্দু
    আজকাল | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে খুশির খবর। রাজ্যের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে প্রথম রাউন্ডেই আসন পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে সার্বিক ভাবে পড়ুয়া ভর্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রথম রাউন্ডে কলেজে নথিভুক্ত পড়ুয়ার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় পড়ুয়াদের আগ্রহ বাড়ছে বলে আনন্দিত বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু।

    রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্‌জ়ামিনেশনস্‌ বোর্ড (ডব্লিউবিজেইইবি) স্নাতক স্তরে ডব্লিউবিজেইই-র কাউন্সেলিংয়ের প্রথম রাউন্ডের নাম নথিভুক্তকরণ, রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়া এবং পছন্দের কলেজ বাছাই বা 'চয়েস ফিলিং' প্রক্রিয়া গত ৩০ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত চলছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উত্তীর্ণদের নিজেদের তাঁদের চূড়ান্ত পছন্দ বা 'চয়েস লক'-এর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তারপর ঘোষণা করা হয় ফলাফল। সেই ফলাফলের পরিসংখ্যানেই দেখা গিয়েছে সার্বিক নাম নথিভুক্তকরণের হার বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। এর পর আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত কলেজে পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া হবে।

    এই প্রসঙ্গেই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে একটি গ্রাফ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর পোস্টে তিনি লেখেন, 'বহু বছর পর এই প্রথম, জয়েন্ট এন্ট্রান্স কাউন্সেলিংয়ের প্রথম রাউন্ডেই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির সমস্ত আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত গর্ব ও আশার বিষয়। এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমাদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা উচ্চতর কারিগরি শিক্ষার জন্য আমাদের রাজ্যকেই বেছে নিচ্ছে। আমাদের রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের পরিবেশের ওপর যুবসমাজের এই আস্থা দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।'

    তিনি আরও জানিয়েছেন, 'সমগ্র রাজ্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির আধুনিকীকরণ ঘটাতে এবং উদ্ভাবন ও শ্রেষ্ঠত্বের এক উন্নত পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা বেশ কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।'

    তাঁর বক্তব্য, 'আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য রাজ্যে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে 'ব্রেন ড্রেন' (মেধার পলায়ন)-কে 'ব্রেন গেইন' (মেধার আহরণ)-এ রূপান্তরিত করা, যাতে আমাদের প্রতিভাবান যুবসমাজ এখানেই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারেন।'

    তাঁর গ্রাফিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে যেখানে প্রথম রাউন্ডে ২৭, ১৩৫ ছাত্রছাত্রী নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। সেখানে এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬,৪৩১। যা প্রায় শতকরা হিসাবে ৩৪-এর বেশি বৃদ্ধি। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ছাত্রীদের সংখ্যাও। গত বছরের চেয়ে এ বছর ছাত্রের সংখ্যাও প্রায় ৩১.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, ছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪১.৮৫ শতাংশ। ছাত্রদের সংখ্যার তুলনায় ছাত্রীদের সার্বিক সংখ্যা বেশ কিছুটা কম। তবে শতকরা হিসাবে এগিয়ে ছাত্রীরা।

    একই পোস্ট ভাগ করে নিয়েছেন রাজ্যের উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনিও এই বিষয়কে বাংলায় উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে আশার আলো হিসাবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
  • Link to this news (আজকাল)