• বারুইপুর এনকাউন্টার কাণ্ডে নতুন মোড়! তদন্তে সিআইডি..
    আজকাল | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যু৷ এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঠিক কী পরিস্থিতিতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল প্রভাসের, তা নিয়ে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। 

    পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য প্রশাসন এই ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় তদন্তও চলবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। ভবানী ভবন সূত্রে খবর, এনকাউন্টারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সমস্ত পুলিশকর্মীর একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকার ভিত্তিতেই একে একে প্রত্যেকের বক্তব্য রেকর্ড করছেন তদন্তকারীরা। কে কোথায় দায়িত্বে ছিলেন, ঘটনার সময় কী দেখেছেন এবং কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

    বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেই পুলিশকর্মীর বক্তব্যে, যার গুলিতে প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন, ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, অভিযুক্তের আচরণ কেমন ছিল এবং সেই মুহূর্তে পুলিশের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য পুলিশকর্মীদের বয়ানের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সিআইডি শুধু গুলি চালানোর ঘটনাই নয়, গোটা পুলিশি অভিযানের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখছে। পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কড়া ছিল, অভিযুক্ত সত্যিই পালানোর চেষ্টা করেছিল কি না এবং সেই পরিস্থিতিতে পুলিশের পদক্ষেপ কতটা নিয়মসিদ্ধ ছিল- এই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপারও ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই তদন্তে গোটা ঘটনার রিপোর্ট, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের বয়ান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    প্রশাসনের দাবি, এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য কোনও পক্ষকে আড়াল করা নয়, বরং ঘটনার প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা। তাই সিআইডির তদন্ত, বিচারবিভাগীয় তদন্ত এবং জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত- তিনটি স্তরেই সমান্তরালভাবে কাজ চলছে।

    এদিকে, প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। বিরোধীরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, তদন্তে কোনও তথ্য গোপন করা হবে না এবং সমস্ত প্রক্রিয়া আইন মেনেই সম্পন্ন হবে। এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রাজ্যবাসীর। সিআইডি এবং বিচারবিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল।
  • Link to this news (আজকাল)