• বারুইপুর নিয়ে বিস্ফোরক অধীর, পাল্টা বিজেপি!
    আজকাল | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জেরে গ্রামবাসীদের হাতে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির  মৃত্যু প্রসঙ্গে মুখ খুললেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। 

    বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি  বলেন, "সাধারণ মানুষের আইনকে হাতে তুলে নেওয়ার কোনও অধিকার নেই, তা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু বারুইপুর কাণ্ডে গ্রামবাসীরা যেভাবে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে মেরেছে, তা বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা আক্রোশেরই বহিঃপ্রকাশ।" 

    অধীরের মন্তব্য, পুলিশ-প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়েই মানুষ আইন নিজের হাতে নিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে তিনি কোনওভাবেই সমর্থন করেন না বলেও জানান।

    একইসঙ্গে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, "এই ঘটনার পর পুলিশ যেভাবে পাল্টা আক্রমণ করছে নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর, তা কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ ঘটনাচক্রে ওই জায়গাটি সম্পূর্ণ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। আইন যদি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তা খুবই বিপদজনক।"

    অধীরের এই মন্তব্যের বিরোধীতা করে রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, "বারুইপুরে যেভাবে রেললাইন উপড়ে ফেলার চেষ্টা বা থানা ভাঙচুর করা হয়েছে তাতে এরাজ্যে এনআরসি বা সিএএ নিয়ে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিই মনে করিয়ে দিয়েছে‌। এই ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবেই বন্ধ করা দরকার। কিছু লোকজন বিষয়টিতে এখন একটি সাম্প্রদায়িক রঙ লাগানোর চেষ্টা করছেন।" 

    প্রশাসনকে সতর্ক করে অধীর বলেন, "বারুইপুর ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিগত কয়েক বছরে মাদক কারবার ও নারী পাচারের রমরমা বেড়েছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই এই ব্যবসা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাই এই ঘটনার সঙ্গে মাদক পাচার, নারী পাচার বা কোনও বড় মাথার যোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।"

    শুধু কড়া আইন বা এনকাউন্টার দিয়ে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ যাবে না বলেও মত প্রকাশ করেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। উদাহরণ হিসেবে তিনি গোটা দেশের পরিসংখ্যান টেনে আনেন। তিনি বলেন ,"ভারতে যত রেড লাইট এলাকা আছে, তার বেশিরভাগের অধিবাসী বাংলার মা-বোনেরা। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাটে কড়া আইন থাকা সত্ত্বেও এনআরসিবি-র রিপোর্ট বলছে রাজস্থানে মহিলাদের উপর অত্যাচার সবচেয়ে বেশি।"

    অধীরের কথায়, প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি সমাজের ভেতর থেকেও সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। তা না হলে কোনওভাবেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো কাপুরুষোচিত অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়।
  • Link to this news (আজকাল)