মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের স্যালাইন কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দপ্তর। ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য হাসপাতালে পৌঁছেছে প্রতিনিধি দল। তাঁরা হাসপাতাল সুপার ও মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। দ্রুত গোটা ঘটনার রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
বিষয়টা ঠিক কী? ২০২৫-এর পর এবার ফের স্যালাইন বিতর্কে নাম জড়িয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের। জানা গিয়েছে, রোগীর নাম মানসী দে। মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লির বাসিন্দা তিনি। বৃদ্ধার ছেলে জানান, গত ৫ জুলাই কিডনি ও হার্টের সমস্যা নিয়ে মেদিনীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁর মাকে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তাঁর স্ট্রোক হয়েছে। বুধবার সকালে বৃদ্ধাকে স্যালাইন দেওয়া হয়। রোগীর ছেলে জানান, গতকাল বিকেল থেকে তাঁর মায়ের বুকে জ্বালা শুরু হয়। সেই সময় স্যালাইনের বোতলে চোখ যেতেই তিনি দেখেন, চলতি বছরের মার্চেই সেটির মেয়াদ ফুরিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা হাসপাতালের সুপার-সহ বিভিন্ন জায়গায় জানান।
এই খবর পাওয়ার পরই পদক্ষেপ করে স্বাস্থ্যদপ্তর। তড়িঘড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে প্রতিনিধি দল। তাঁরা গোটা বিষয়টা নিয়ে বৈঠক করেন হাসপাতালের সুপার ও কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে। ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, ওই রোগীর সঙ্গেও দেখা করবে স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম। তারপর রিপোর্ট পেশ করবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে। এবিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “রিপোর্ট তলব করেছি। তা হাতে পেলেই বলতে পারব কী হয়েছে।” উল্লেখ্য, মেদিনীপুর হাসপাতালে এই ঘটনা কিন্তু প্রথম নয়। ২০২৫ সালে ৫ প্রসূতিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এই হাসপাতালের বিরুদ্ধেই। ২ সদ্যোজাতের মৃত্যুও হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে পরীক্ষা করে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, স্যালাইনে কোনও সমস্যা ছিল না।