হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রোগী ICU-তে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মেডিক্যাল কলেজে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিতর্কের পর হাসপাতালের ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী, স্যালাইন রোগীর হাতে পৌঁছনোর আগে একাধিক স্তরে তা পরীক্ষা হওয়ার কথা। ফলে কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় পৌঁছল, তা নিয়েই তদন্তে জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্রের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্যালাইন প্রথমে সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরে আসে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের চাহিদা (রিকুইজিশন) অনুযায়ী কলেজের কেন্দ্রীয় স্টোরে পাঠানো হয়। আবার প্রয়োজনে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ লোকাল পারচেজের মাধ্যমেও স্যালাইন কিনতে পারে।
অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় কিছু অতিরিক্ত স্যালাইন মজুত রাখা হয়। হাসপাতালের পরিভাষায় এই অতিরিক্ত মজুতকে ‘সাব-স্টক’ বলা হয়। এর উদ্দেশ্য, গভীর রাতে বা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত স্যালাইন বা প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া। স্বাস্থ্য দফতরের একাংশের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে মেয়াদ (Expiry Date) যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
মেডিক্যাল কলেজের কেন্দ্রীয় স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী বা আধিকারিক, যিনি স্যালাইন গ্রহণ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিস্টার বা সিস্টার-ইনচার্জ, যিনি রিকুইজিশন দিয়ে স্যালাইন সংগ্রহ করেন এবং রোগীর ব্যবহারের আগে তা যাচাই করার দায়িত্ব পালন করেন।
তদন্তকারীদের মতে, এই দুই স্তরের কোনও একটিতে বা উভয় ক্ষেত্রেই যদি মেয়াদ যাচাইয়ে গাফিলতি হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন রোগীর কাছে পৌঁছল, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে।