নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সিটি সেন্টারের কাছে শহরের ব্যস্ততম ট্রাফিক সিগন্যাল। সেখানে ট্রাফিক পুলিশেরই সচেতনতার ব্যানার। তাতে দু’টি ডিমের ছবি। একদিকে, পাখির বাসার উপর রাখা ডিম। অন্যদিকে, ডিমের উপর হেলমেট পরানো! তার নীচে ইংরেজিতে লেখা— ‘চুজ ইওর শেল’! বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই হেলমেট নিয়ে সল্টলেকে এই সচেতনতার বার্তা দিতে শুরু করেছিল ট্রাফিক পুলিশ। এদিকে, পালাবদলের পর চতুর্দিকে তৃণমূল নেতাদের উপর ‘ডিম থেরাপি’ শুরু হয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক ইস্যুর সঙ্গে মিলে যেতেই ভোটের আগের এই ব্যানার নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকে বলছেন, ট্রাফিকেও ‘থিম থেরাপি’!
আগে শুধু চর্চায় ছিল ডিম-ভাত। কিন্তু, ডিম নিয়ে এখন চর্চার শেষ নেই। তা সে কলকাতায় মিড ডে মিল হোক কিংবা তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের উপর ডিম থেরাপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই প্রথম ডিম ছোড়া হয়। তারপর থেকে ডিম এখন ট্রেন্ড। কোনো নেতা গ্রেপ্তার হলেই হাতে ডিম নিয়ে হাজির হয়ে যাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। কেউ কেউ পচা ডিমও আনছেন। ভবিষ্যতে সেই ডিম ঘুরে আসতে পারে বলে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ‘পুলিশের ডিম ডিটেক্টর নেই’, ‘পকেট হাত ঢুকিয়ে ডিম খোঁজা’— ডিম নিয়ে শমীকবাবুর এমন কয়েকটি বক্তব্য এখন ভাইরাল।
ভোটের আগেই ট্রাফিক সচেতনতায় এমনই অভিনব ব্যানার টাঙিয়েছিল পুলিশ। তখনও বাংলায় ‘ডিম থেরাপি’ শুরু হয়নি। ছবি সহ ব্যানারটি খুবই ইন্টেলেকচ্যুয়াল। ব্যানারে ডিম বলতে মানুষের নরম মাথাকে বোঝানো হয়েছে। সবাই যাতে হেলমেট পরে বাইক চালান— এই বার্তা দিতেই এই নতুন আইডিয়া। সেখানে দেখানো হয়েছে, ছোট্ট বাসার উপর ডিম অর্থাৎ মাথা অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে? নাকি হেলমেট পরিয়ে নিজের মাথাকে সুরক্ষিত করা হবে। ডিম ছাড়াও মদ খেয়ে গাড়ি না চালানো, মোবাইলে কথা বলতে বলতে গাড়ি না চালানো ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সচেতন করা হয়েছে।
তবে, সিটি সেন্টারের সামনে বসে অনেকেই আঙুল দেখিয়ে বলছেন, এই দেখ পুলিশও ‘ডিম থেরাপি’ শুরু করে দিয়েছে! অনেকে হয়ত লক্ষ্য করেননি। ডিমের বাজার গরম হতেই লোকের চোখে পড়ছে ওই সচেতনতার ব্যানার!