রাজ্যের ১ কোটি ২২ লক্ষ মহিলা বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে জেলায় জেলায় কিছু মানুষ আবেদন করেও অ্যাকাউন্টে টাকা পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন। তা নিয়ে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এই অবস্থায় নতুন কিছু গাইডলাইন দিল রাজ্য প্রশাসন, যাতে এই ধরনের সমস্যার সমাধান হয়।
অনলাইনে উপভোক্তাদের নাম বা আধার নম্বর দেওয়ার সময়ে সামান্য কোনও ভুল হলে সমস্যায় পড়ছেন অনেকেই। সেই কারণে এনকোয়ারি অফিসারদের কাছে ‘এডিট অপশন’ দেওয়া হচ্ছে। তারা সামান্য ত্রুটি সংশোধন করে নিতে পারবেন।
অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য ‘ফিল্ড ভেরিফিকেশন’ শুরু হয়েছে ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার থেকে। এই ‘ফিল্ড ভেরিফিকেশন’-এ কেউ ‘অযোগ্য’ প্রমাণিত হলে তাঁর নাম বাদ যাবে। প্রয়োজন অনুসারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, ইচ্ছুক বিএলওদের ফিল্ড ভেরিফিকেশনের কাজে লাগানো যেতে পারে।
অনলাইনে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা নিজেদের প্রোফাইলে ঢুকে স্ট্যাটাস চেক করে নিতে পারছেন। এ বার অফলাইনে আবেদনকারীদের জন্য স্ট্যাটাস চেক করার অপশন দেওয়া হবে।
সব অফলাইন আবেদনও ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ডিজিটাইজ় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যোগ্যরা জুলাই মাসের ভাতা পান।
সরকারি কর্মচারী বা পেনশন হোল্ডার বা আয়কর দাতাদের পরিবারের মহিলা কি এই যোজনার সুবিধা পাবেন? আপাতত তাঁরা এই সুবিধা পাচ্ছেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ ‘যোগ্য’ কি না তা পরে খতিয়ে দেখা হবে। সেই ক্ষেত্রে এই সব আবেদনকারীদের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণকারী শর্ত পরে জানানো হবে।
ASHA কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, প্যারা টিচার-দের আবেদন আপাতত অনুমোদন করা হবে না, কারণ তাঁরা সরকারি খাত থেকে মাসিক ভাতা পারিশ্রমিক পান। সেই সিদ্ধান্তও হয়েছে।
আবেদনকারী মহিলার পরিবারে তিনটি ঘর থাকলে, ৫০ ডেসিমেল-এর বেশি জমি থাকলে তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন? জানানো হয়েছে, এই ক্ষেত্রে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনেক উপভোক্তার ব্যাঙ্কিং ট্রান্সফার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে এডিএম, বিডিও, এসডিওদের সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ব্যাঙ্ক টাকা না পৌঁছনোর বিস্তারিত কারণ জানিয়েছে। সেই কারণগুলি NIC পোর্টালে আবেদনকারীদেরও দেখাবে। পাশাপাশি ADM, SDO ও BDO-দের ব্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিটি ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যায়।
এ ছাড়াও গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসগুলিতে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ‘হেল্প ডেস্ক’ তৈরি করা যায় কি না সে ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। যে উপভোক্তারা ৩০ জুনের মধ্যে আবেদন করেছেন অথচ, টাকা পাননি, তাঁদের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।