আজকাল ওয়েবডেস্কঃ রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী। ১৪ বছর পর ফের খুলল বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার ফাইল। নতুন করে তদন্ত শুরু হল প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার পুনর্তদন্তের আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল এদিন গোবরডাঙায় বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।
জানা গিয়েছে, সিআইডির দুই আধিকারিক বরুণ বিশ্বাসের বাবা, দিদি-সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। তদন্তকারীরা বরুণ বিশ্বাসের সামাজিক ভূমিকা, এলাকার পরিস্থিতি, তাঁর বিরুদ্ধে কারও শত্রুতা ছিল কি না এবং কী কারণে তাঁকে খুন হতে হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি, এলাকায় নারীদের উপর অত্যাচার ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বরুণ বিশ্বাসের আন্দোলন সম্পর্কেও পরিবারের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একাধিকবার পুনর্তদন্তের আবেদন জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা আশাবাদী। বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, নতুন সরকারের কাছে পুনর্তদন্তের আবেদন করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের মাধ্যমে শাস্তির দাবি জানান।
এছাড়াও, পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি ও নারীদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকায় পরিকল্পিতভাবে বরুণ বিশ্বাসকে খুন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন শাসক দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতারদের(প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক) ভূমিকা সম্পর্কেও তাঁরা তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষক ও সমাজকর্মী বরুণ বিশ্বাস। তিনি ছিলেন মিত্র ইনস্টিটিউশন এর শিক্ষক। দীর্ঘদিন পর মামলার পুনর্তদন্ত শুরু হওয়ায় পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা বরুণ হত্যা মামলার সুবিচারের আশা দেখছেন।