মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেই অ্যাকশন! বরুণ বিশ্বাস খুনের জট খুলতে পরিবারের মুখোমুখি সিআইডি
News18 বাংলা | ১০ জুলাই ২০২৬
: খুলল বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার ফাইল, তদন্তে নেমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলল সিআইডি দল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের খুলল প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার ফাইল। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বরুণ বিশ্বাসের পরিবার নতুন করে মামলার তদন্তের আবেদন জানায়। পরিবারের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই পুনঃতদন্তের আশ্বাস মিলেছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এদিন বরুণ বিশ্বাসের গোবরডাঙার বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডির একটি প্রতিনিধি দল।
সিআইডির দুই আধিকারিক বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা, দিদি-সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তদন্তকারীরা বরুণ বিশ্বাসের জীবন, তাঁর সামাজিক ভূমিকা, এলাকার পরিস্থিতি এবং কী কারণে তাঁকে খুন হতে হয়েছিল সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি এলাকায় নারীদের উপর অত্যাচার, সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বরুণ বিশ্বাসের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের তালিকা সম্পর্কেও পরিবারের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একাধিকবার পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হলেও সেভাবে সাড়া মেলেনি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত তদন্ত শুরু হওয়ায় তাঁরা আশাবাদী যে এবার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং দোষীরা আইনের মাধ্যমে সাজা পাবে। বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, “১৪ বছর পর আমরা নতুন সরকারের কাছে তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলাম। সরকার খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সিআইডিকে তদন্তে নামিয়েছে। এর জন্য আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের একটাই দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
পরিবারের আরও অভিযোগ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি এবং নারীদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকায় পরিকল্পিতভাবেই বরুণ বিশ্বাসকে খুন করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে তৎকালীন শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের (প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক) ভূমিকা ছিল বলেও পরিবারের দাবি, সেই বিষয়টিও জানানো হয় সিআইডি দলকে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষক ও প্রতিবাদী বরুণ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পর মামলার পুনঃতদন্ত শুরু হওয়ায় নতুন করে সুবিচারের আশা দেখছে বরুণ বিশ্বাসের পরিবার-সহ গোটা সুটিয়া।