• সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ বাদ পা! অভিষেক-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মহিলার
    প্রতিদিন | ১০ জুলাই ২০২৬
  • হাতুড়ে কিংবা পড়ুয়া ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিলি রোগীদের। রাজ্যে পালাবদল হতেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে এমন ভূরি ভূরি অভিযোগ ছিলই। এবার প্রকাশ্যে জলজ্যান্ত প্রমাণ। চিকিৎসা পরিষেবার আশায় সেবাশ্রয়ে গিয়ে খেসারত দিতে হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসকে। অভিযোগ, সেবাশ্রয়ের ‘ভুল’ চিকিৎসায় এক পা খুইয়েছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মহিলার। রবীন্দ্রনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস। অভিযোগ, হাঁটু ব্যথা নিয়ে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চিকিৎসার আশায় গিয়েছিলেন ওই মহিলা। সেখান থেকে প্রাথমিক চেকআপের পর তাঁকে বেশ কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। সেই ওষুধ খেয়েই নাকি হাঁটুর ব্যথা ভয়ঙ্কর বেড়ে যায়। ফের সেবাশ্রয়ে ব্যথা নিয়ে গেলে, তাঁকে রেফার করা হয় এমআর বাঙুর হাসপাতালে। অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, ভুল চিকিৎসায় পায়ের অবস্থা খারাপ। সেখান থেকে ওই মহিলাকে পার্কসার্কাস চিত্তরঞ্জনে রেফার করা হয়। অবশেষে ন্যাশনাল মেডিক্যালে ওই মহিলার পায়ের অস্ত্রোপচার হয়। একের পর এক ‘রেফার রোগে’ রীতিমতো দিনের পর দিন পায়ের অবস্থা খারাপ হতে থাকায় তাঁর পা কেটে বাদ দিতে হয়। এই করুণ পরিণতির পর বহুবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেবাশ্রয় ক্যাম্পের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেই চাননি বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন অসহায় মহিলা ও তাঁর পরিবার।

    বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস আগেই সেবাশ্রয়ের দুর্নীতি প্রসঙ্গে একাধিকবার মুখ খুলেছেন। তাঁর দাবি ছিল, সেবাশ্রয়ের নামে ডায়মন্ড হারবারবাসীকে ‘টুপি’ পরিয়েছেন অভিষেক। অভিযোগ, সেবাশ্রয়ে আনা হত হাতুড়ে ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের। তাঁদের কারও রেজিস্ট্রশনই ছিল না। তাঁরাই নাকি মর্ডান চিকিৎসা করতেন! বিজেপি নেতার প্রকাশ করা একটি প্রেসক্রিপশনে দেখা গেছে, রোগীর নাম-বয়স লেখা রয়েছে, তবে নেই রোগের বিবরণ। শুধু লেখা, ‘রেফার্ড টু হসপিটাল।’ সেই প্রেশক্রিপশনে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও লেখা নেই। তিনি আরও দাবি করেছেন, ইউএসজির মেশিন ব্যবহারের জন্য আইন অনুযায়ী যে অনুমতির দরকার, তাও নাকি নেননি অভিষেক। এখানেই শেষ নয়, জোর করে এলাকার বাসিন্দাদের সেবাশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হত বলে দাবি। কারণ, ভিড় না বাড়লে সেবাশ্রয় যে সফল তা প্রমাণ করা যাবে না। এছাড়া ওষুধের মান, মেয়াদ নিয়েও অভিযোগ পত্রে প্রশ্ন তুলেছিলেন ওই বিজেপি নেতা। অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি-কেও পাঠিয়েছিলেন তিনি। এবার এই সমস্ত অভিযোগের জলজ্যান্ত উদাহরণ হিসেবে সামনে এল সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ পা বাদ যাওয়া মালতী বিশ্বাসের করুণ পরিণতি!
  • Link to this news (প্রতিদিন)