বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতেন যাঁরা। তাঁরাই এবার চিহ্নিত করবেন স্মার্টফোনে আসক্ত শিশুকেও। শুধু শহর নয়। স্মার্টফোন ছেয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। শহরের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব আরাধনা পট্টনায়ক জানিয়েছেন, গ্রামে এমন পরিবার ভুরিভুরি, যাদের হয়ত এসি, টিভি বা ফ্রিজ নেই, কিন্তু একটি স্মার্টফোন আছে। আরাধনা পট্টনায়কের কথায়, “বাবা-মায়েদের মধ্যে এখন একটি সাধারণ প্রবণতা দেখা যায়। শিশুকে ব্যস্ত রাখার জন্য তার হাতে অল্প বয়সে মোবাইল তুলে দেন।” ন্যাশনাল হেলথ মিশনের মিশন ডিরেক্টর জানিয়েছেন, মা-বাবা বুঝতে পারেন না মোবাইলের প্রভাব শিশুর মস্তিষ্কের উপর সুদুরপ্রসারি। অল্প বয়সে অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহারের ফলে মনোযোগের ঘাটতি, দেরিতে কথা শেখার প্রবণতা দেখা যায়। দেখা যায় চোখের ক্ষতি, আচরনগত সমস্যা।
আরাধনা পট্টনায়ক জানিয়েছেন, গ্রামে গ্রামে শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে কী ধরণের সমস্যা হচ্ছে, তা শনাক্ত করার জন্য সম্প্রতি আশাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পুরনো প্রশিক্ষণ মডিউল সংশোধন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করার সময় আলাদা করে CBAT ফর্ম পূরণ করবেন। সেই ফর্মে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রশ্ন। বাড়ির শিশু দিনে কতটা সময় মোবাইল ফোনে কাটায়? বাড়ির শিশুর আচরণ বা উপসর্গ কেমন? অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে সে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেটাও লিখতে হবে ফর্মে। স্মার্টফোন আশক্তি চিহ্নিত করতে এটিই হবে প্রাথমিক স্তরের স্ক্রিনিং। আরাধনা জানিয়েছেন, একইভাবে, স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতেও আমরা এই বিষয়টি স্কুল হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস প্রোগ্রাম-এর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।