নবান্নে প্রসেনজিৎ, শুভেন্দুর সঙ্গে টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-র সাক্ষাতের কারণ কী
eTV Bharat | ০৯ জুলাই ২০২৬
কলকাতা, 9 জুলাই: নবান্নে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ৷ বৃহস্পতিবার তিনি নবান্নে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ৷ যেহেতু চলতি মাসেই রাজ্য়ের তিনটি রাজ্যসভার আসনে উপনির্বাচন, তাই তাঁর এই সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে ৷ যদিও নবান্ন থেকে বেরনোর সময় এই সব জল্পনা উড়িয়ে দেন প্রসেনজিৎ ৷ তিনি জানান, এদিনের বৈঠকে রাজনীতি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি ৷
টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-কে কখনওই সরাসরি রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়নি ৷ অতীতেও সরকারি অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁকে দেখা গিয়েছে, তবে কখনও তৃণমূলের মঞ্চে তিনি হাজির হননি ৷ বিজেপি সরকারের আমলে সেই ধারা অব্যাহত রেখে তিনি ব্রিগেডে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন ৷
তবে তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয় গত সোমবার ৷ সেদিন ছিল 'ভারত কেশরী' শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী ৷ সেই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ফাঁকেই প্রসেনজিতের বাড়িতে যান শাহ ৷ সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন ৷ রাজ্যসভার উপনির্বাচনের আগে এই সাক্ষাৎই নতুন করে প্রসেনজিতের রাজনীতিতে পা-দেওয়ার জল্পনা উসকে দেয় ৷ বৃহস্পতিবার সেই জল্পনা আরও বাড়ে নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে প্রসেনজিতের সাক্ষাতে ৷
তবে, জল্পনা উড়িয়ে বাংলা সিনেমার জ্যেষ্ঠপুত্র বলেন, "আমার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না ৷ অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী সেদিন 10 মিনিটের জন্য আমার বাড়িতে গিয়েছিলেন সবাই জানেন ৷ আমি আজ 40 বছর ধরে কাজ করছি ৷ কিছু কিছু বিষয়ে কথা বলার দরকার আমারও থাকে ৷ মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সেই সব নিয়ে কথা বলা একটা প্রোটোকলের মধ্যে পড়ে ৷ অনেক সময় আমি বাইরে যাই একা কাজ করতে, তখনও আমার সিস্টেমের মধ্যে কিছু কিছু জিনিস লাগে ৷ সেই সব নিয়েই আলোচনা হয়েছে ৷ কফি খেয়েছি ৷ সিনেমা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷"
তিনি আরও বলেন, "উত্তম জেঠুর এবার জন্মশতবর্ষ ৷ সেটা যাতে সারা ভারতবর্ষের লোক মনে রাখে এমনভাবে পালন করার কথা হল আজ। উত্তম জেঠুর মৃত্যুদিন 24 জুলাই বিশেষভাবে পালিত হয়। তবে, এবার ওঁর জন্মদিন 3 সেপ্টেম্বরও আমাদের কাছে দারুণ হতে চলেছে । এর বাইরে কোনও কথা হয়নি ।"
প্রসেনজিৎ আরও বলেন, "পশ্চিমবাংলার মানুষ এটুকু বিশ্বাস করুন আমার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি ৷ আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়েই কথা হয়েছে ৷ কখনও যদি ওঁদের মনে হয় আমি কোনও কমিটিতে থাকলে আমার ইন্ডাস্ট্রির ভালো হবে, তা হলে আমি থাকব ৷ কারণ, ওটা আমার জায়গা। বিনিয়োগের ব্যাপারেও সেভাবে কথা হয়নি। তবে আগামিদিনে ভালো কিছুই হবে, এটুকু আশা রাখি ৷"
সূত্রের খবর, গত সোমবার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে মোদি সরকারের গত 12 বছরের বিভিন্ন সাফল্যের কথা অভিনেতার সামনে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাল্টা সৌজন্য হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি বই উপহার দেন প্রসেনজিৎ। সম্প্রতি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছাও জানান অমিত শাহ।
সাম্প্রতিক সময়ে টলিউডে শিল্পী সংগঠন, বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং চলচ্চিত্র শিল্পকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে ৷ তাই একথাও অস্বীকার করা যায় না, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নিজে একজন সফল প্রযোজক ৷ সেই নিয়ে কথা বলতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়া অস্বাভাবিক নয় ৷ একইসঙ্গে সামনেই রাজ্যসভার তিনটি আসনে উপনির্বাচন ৷ সেই উপনির্বাচনে কি সরাসরি রাজনীতিতে পা-রাখবেন বাংলা সিনে দুনিয়ার 'বুম্বা দা' ? উত্তরে বলেন, "আর কতবার বলব আমার সঙ্গে এই সংক্রান্ত কোনও কথাই হয়নি।"