• নিজের খাসতালুকেই থানায় তিন ঘণ্টা জেরার মুখে মানস ভুঁইয়া
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • তিনি সাত বার বিধায়ক বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। এক সময়ে সবং-এ তিনিই ছিলেন শেষ কথা। সেই মানস ভুঁইয়াকেই এ বার জেরার মুখে পড়তে হলো। তাও নিজের খাসতালুকেই।

    সেচ মন্ত্রী থাকার সময়ে টাকার বিনিময়ে তিনি এক মহিলাকে চাকরি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই মহিলাকে সবংয়ের তেমাথানি ইরিগেশন বাংলোয় তত্ত্বাবধায়কের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার বদলের পরেই চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওই মহিলাকে। এই নিয়েই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন  সবং বিধানসভা এলাকার বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ওই মহিলার স্বামী। এই নিয়েই জেরা করার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল মানস ভুঁইয়াকে। তবে ওই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ওই নোটিস পাওয়ার পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থও হন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক। তবে হাই কোর্ট রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রীকে রক্ষাকবচ না দিয়ে তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়। এর পরেই বৃহস্পতিবার সবং থানায় হাজির হন মানস ভুঁইয়া।

    পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সবং থানায় হাজির হন রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী। প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে।  জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বয়ান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এ দিকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে থানা কোনও মন্তব্য করতে চাননি মানস ভুঁইয়া। সোজা গাড়িতে উঠে যান তিনি। সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে সবং-এর প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, ‘নাথিং’।

    এই নিয়ে তিনি কোনও কথা না বললেও তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি বলেন, ‘কথায় আছে, পাপ বাপকে ছাড়ে না। দুর্নীতি যেমন করেছে, তেমনই শাস্তি হবে। আইন আইনের পথে চলবে।’

    জানা গিয়েছে, মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার মামলা দায়ের করেন বিকাশকুমার টুং। তাঁর অভিযোগ, সেচ দপ্তরে স্ত্রীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন মানস ভুঁইয়া। প্রাক্তন সেচ মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম এবং ভোলানাথ দে নামে দুই ব্যক্তির হাতে নগদ ৫ লক্ষ টাকা তুলে দিতে হয়েছিল তাঁকে। স্ত্রী চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর গত মার্চ মাসে নিয়মমাফিক বেতনও পেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র দু’মাসের মাথায় আচমকাই তাঁকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। বং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে প্রাক্তন মন্ত্রীকে একাধিকবার থানায় হাজির হওয়ার নোটিস পাঠানো হয়। তবে পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রথম দু'বার তিনি হাজির হননি। ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মানস ভুঁইয়া। হাইকোর্ট তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়ার পরে বৃহস্পতিবার সবং থানায় হাজিরা দেন তিনি। সেখানেই তাঁকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)