• এমবাপে-দেম্বেলের দাপটে ফিকে বোনৌর লড়াই, মরক্কোকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের সেমিতে ফ্রান্স
    এই সময় | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • স্পেন, বেলজিয়াম, পর্তুগালকে হারিয়ে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে পৌঁছেছিল মরক্কো। কিন্তু স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ফ্রান্সের কাছে হেরে। সেই ছবিটাই আরও একবার ফিরল চার বছর পরে। তবে সেমি ফাইনাল নয়, এ বার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিল মরক্কো। গোটা ম্যাচ জুড়ে দারুণ লড়াই করলেন গোলকিপার ইয়াসিন বোনৌ। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপে এবং ওউসমানে দেম্বেলের কাছে হার মানলেন। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে পৌঁছে গেল ফ্রান্স। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্যন্ত ভালো পারফর্ম করলেও শেষ আটে একেবারেই ফিকে দেখাল আচরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াসদের।

    এমবাপের পেনাল্টি মিস, বোনৌর দাপটে গোলশূন্য প্রথমার্ধ

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক শানায় ফ্রান্স। প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে দু’বার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন এমবাপে, দেম্বেলেরা। তবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স।

    ২৪ মিনিটের মাথায় কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে মাইকেল ওলিসে বল বাড়ান এমবাপেকে। দুরন্ত গতিতে থাকা এমবাপেকে আটকাতে গিয়ে নিজেদের বক্সে ফাউল করে বসেন মাজরাউই। পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। কিন্তু জ্বলে ওঠেন গোলকিপার বোনৌ। নির্ভুল অনুমান করে সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে এমবাপের পেনাল্টি সেভ করেন তিনি। এর পরে একাধিকবার গোলের চেষ্টা করে ফ্রান্স।

    তবে দেম্বেলে-দুয়েদের নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেন বোনৌ। অন্য দিকে একটা শটও গোলে রাখতে পারেনি মরক্কো। তাদের খেলা আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল স্পষ্ট। গোলশূন্য ভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

    ৬ মিনিটে জোড়া গোল, দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের কামব্যাক

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় ফ্রান্স। তার সুফল মেলে ৬০ মিনিটে। মরক্কোর তিন ডিফেন্ডারের জটলার মাঝেও জ্বলে ওঠেন এমবাপে। ডিফেন্ডার ইসা দিওপের পাশ দিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁক খাওয়ানো শটে নজরকাড়া গোল করেন তিনি। শূন্যে শরীর ভাসিয়েও ইয়াসিন বোনৌ বলের নাগাল পাননি। চলতি বিশ্বকাপে নিজের আট নম্বর গোলটি করে ফেললেন এমবাপে। বিশ্বকাপ কেরিয়ারে ২০ নম্বর গোল।

    ছয় মিনিটের মধ্যে আসে দ্বিতীয় গোল। এ বার জ্বলে ওঠেন দেম্বেলে। মরক্কোর প্লেয়ারদের থেকে মাঝমাঠে বল ছিনিয়ে নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে ফ্রান্স। ছোট্ট টাচে দেম্বেলেকে বল বাড়ান এমবাপে। দুরন্ত গতিতে ডিফেন্ডারদের টপকে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন তিনি। বোনৌ হাত ঠেকালেও গোল বাঁচাতে পারেননি। ২-০ গোলে লিড নেয় ফ্রান্স।

    গোটা ম্যাচে নিষ্প্রভ হাকিমি-দিয়াসরা, বিদায় মরক্কোর

    ৭৬ মিনিটের মাথায় চোট পান এমবাপে। ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় আর ঝুঁকি নেননি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ। এমবাপেকে তুলে নেন তিনি। অন্য দিকে গোলের জন্য রাহিমি, আমরাবাৎদের নামান মরক্কোর কোচ ওয়াহাবি। তবে লাভ হয়নি। গোটা ম্যাচ জুড়েই নিষ্প্রভ ছিলেন হাকিমি, দিয়াসরা। চোটের জন্য তারকা স্ট্রাইকার সাইবারির খেলতে না পারাটা বড় ধাক্কা হলো মরক্কোর কাছে।

    শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ল ফ্রান্স। প্রথম দল হিসেবে পৌঁছে গেল ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সেমিতে। স্পেন বনাম বেলজিয়াম ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে খেলবে তারা।
  • Link to this news (এই সময়)