• ফ্রান্সে জন্ম, খেলছেন মরক্কোর হয়ে, বিশ্বকাপে সাফল্যের নেপথ্যে প্রবাসী ফুটবলারদের মাস্টারপ্ল্যান
    এই সময় | ০৯ জুলাই ২০২৬
  • বিশ্বকাপে মরক্কো (Morocco) ইতিহাস গড়ছে শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে নয়, দল গঠনের কৌশলেও। অন্তত এমনটাই দাবি করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। ফ্রান্সের (France) বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তরুণ মিডফিল্ডার আয়ুব বুয়াদ্দি (Ayyoub Bouaddi)। ফ্রান্সে জন্ম, ফরাসি বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলা— সব কিছু সত্ত্বেও বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে তিনি বেছে নিয়েছেন মরক্কোকে। তবে বুয়াদ্দির গল্প কোনও ব্যতিক্রম নয়। মরক্কোর বর্তমান বিশ্বকাপ দলে ২৬ জনের মধ্যে ১৯ জনই দেশের বাইরে জন্মেছেন। বহু বছর ধরে পরিকল্পিত ভাবে প্রবাসী প্রতিভাদের দলে টেনে এনে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে মরক্কো।

    প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে মরক্কোর দীর্ঘ পরিকল্পনা

    ২০১৪ সালে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরে এই প্রকল্প নতুন গতি পায়। বিশেষ একটি বিভাগ তৈরি করা হয়, যার কাজ ছিল ইউরোপে ছড়িয়ে থাকা মরক্কো বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের খুঁজে বের করা এবং তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।

    বর্তমানে স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, জার্মানি ও অন্যান্য দেশে থাকা স্কাউটরা ছোট বয়স থেকেই সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের পর্যবেক্ষণ করেন। মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের দাবি, তাদের ডেটাবেসে প্রায় তিন হাজার তরুণ ফুটবলারের তথ্য রয়েছে। শুধু খেলোয়াড় নয়, তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়, যাতে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তাঁদের সামনে তুলে ধরা যায়।

    ব্রাহিম দিয়াজ় থেকে বুয়াদ্দি

    এই কৌশলের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ব্রাহিম দিয়াজ় (Brahim Diaz)। স্পেনে জন্ম নেওয়া এই তারকা প্রথমে স্পেনের হয়েই খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দীর্ঘ দিন ধরে বোঝানোর পর শেষ পর্যন্ত তিনি মরক্কোর জার্সি বেছে নেন। বর্তমানে বিশ্বকাপে মরক্কোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার তিনি।

    একই ভাবে আয়ুব বুয়াদ্দিকেও দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর চেষ্টা চালায় মরক্কো। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেললেও বিশ্বকাপের আগে তিনি মত বদলান। মরক্কোর ফুটবল কর্তাদের মতে, তাঁর মতো প্রতিভাবান ফুটবলারকে দলে আনা ছিল ‘অগ্রাধিকারের বিষয়’।

    শুধু ফুটবল নয়, আছে আবেগও

    মরক্কোর কর্তাদের মতে, জাতীয় দল বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু পেশাগত ভবিষ্যৎ বা সাফল্যের হিসাব কষে নেওয়া হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিজের শিকড়, পারিবারিক পরিচয়, সংস্কৃতি এবং দেশের প্রতি গভীর আবেগ। ইউরোপে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও, অনেক ফুটবলারের পরিবার মরোক্কোর সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে। ফলে ছোটবেলা থেকেই তারা মরক্কোর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে নিবিড় ভাবে যুক্ত থাকে। সেই আবেগই অনেক সময় তাঁদের পূর্বপুরুষের দেশের জার্সি গায়ে চাপানোর পথে সবচেয়ে বড় প্রেরণা হয়ে ওঠে।

    তবে সব সময় মরক্কো সফল হয় না। বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামালকে (Lamine Yamal) দলে টানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত ইয়ামাল স্পেনকেই বেছে নেন। তবুও প্রবাসী প্রতিভাদের নিয়ে মরক্কোর এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই তাদের বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিতে পরিণত করেছে।
  • Link to this news (এই সময়)