সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ১৫ মৎস্যজীবী, উদ্বিগ্ন পরিবার
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, কাঁথি: রামনগরের শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার সহ নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের বৃহস্পতিবারও সন্ধান মিলল না। তাঁদের কোনো খবরই পাওয়া যাচ্ছে না। উপকূলরক্ষী বাহিনী থেকে শুরু করে কোস্টাল থানার পুলিশ সহ যাবতীয় উদ্ধারকারী দল জোরদার তল্লাশি জারি রেখেছে। মৎস্যজীবীদের কোনো খোঁজখবর না পেয়ে বন্দরে ভিড় জমিয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা উৎকন্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে এদিন বন্দরে যান কোস্টগার্ডের ডিজিপি অর্ণব ঘোষ সহ এলাকার বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, জেলা সহ মৎস্য অধিকর্তা(সামুদ্রিক) সুমন সাহা প্রমুখ। সঙ্গে ছিলেন জেলা পুলিশের কর্তারা। তাঁরা উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের আশ্বস্ত করেন, সরকার ও পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু করার, করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের খোঁজখবর চালানোর ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজরে আনা হয়েছে। তিনিও খোঁজখবর নিচ্ছেন। গত ২জুলাই শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে মৎস্যশিকারের উদ্দেশ্যে ‘মা কালী’ ট্রলার ১৫জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে সমুদ্রে যাত্রা করে। মাছ ধরে নির্দিষ্ট সময়ে ফেরার কথা থাকলেও মৎস্যজীবীরা ফেরেননি। নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের মধ্যে মন্দারমণি কোস্টাল থানা এলাকার সাতজন রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে দু’জন নদীয়া, একজন হাওড়া, একজন রামনগর, একজন পটাশপুর ও আর প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার বালেশ্বরের তিনজন বাসিন্দা রয়েছেন। অনুমান করা হচ্ছে, ট্রলার সহ মৎস্যজীবীরা কোথাও আটকে রয়েছেন। কিন্তু, টানা বৃষ্টি, খারাপ আবহাওয়ার জন্য তাঁদের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। হয়তো এমন জায়গায় আটকে রয়েছেন, তাঁরা সেখান থেকে যোগাযোগ করতে পারছেন না। উপকূলরক্ষী বাহিনী কিংবা উদ্ধারকারী দল হয়তো সেই জায়গায় পৌঁছতে পারছে না। বুধবার নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবার এবং ট্রলারমালিকের পক্ষ থেকে শঙ্করপুর ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অ্যাসোসিয়েশন পুলিশ-প্রশাসন, মৎস্যদপ্তর, উপকূলরক্ষী বাহিনী সহ সর্বত্র জানায়। এরপর থেকে একটানা খোঁজখবর শুরু হলেও কোনো মেলেনি। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়ক বলেন, প্রশাসন, উপকূলরক্ষী বাহিনী সহ সমস্তস্তরে জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছি। বিধায়ক বলেন, মৎস্যজীবীদের সন্ধানে তল্লাশি জারি রেখেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী, কোস্টাল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখছেন এবং আমরা আশাবাদী, শীঘ্রই মৎস্যজীবীদের হদিশ পাওয়া যাবে।