• ছৌয়ের আদলে দুর্গা, চড়িদার শিল্প সৃষ্টিতে মুগ্ধ পর্যটকরা
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঝালদা : পুরুলিয়ার ছৌ নাচ ও ছৌ মুখোশের ঐতিহ্য এবার নতুন শিল্পভাবনায় ধরা দিল দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপে। বাঘমুণ্ডি ব্লকের চড়িদা গ্রামের শিল্পী ফাল্গুনী সূত্রধরের হাতে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ ছৌ নাচের আদলে দুর্গা প্রতিমার বিশেষ মডেল। পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি, হস্তশিল্প এবং বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছে এই সৃষ্টি। ইতিমধ্যেই এই অভিনব শিল্পকর্মকে ঘিরে পর্যটক, শিল্পরসিক এবং সংগ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    প্রায় দেড় ফুট উচ্চতার এই মডেলটি তৈরি হয়েছে ছৌ মুখোশ নির্মাণের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি অনুসরণ করে। মাটির ছাঁচ তৈরি থেকে শুরু করে কাগজের মণ্ড, কাপড়ের স্তর, খড়িমাটির প্রলেপ এবং সূক্ষ্ম রঙের কাজ  প্রতিটি ধাপেই রয়েছে শিল্পীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নিখুঁত কারুকাজ। দেবী দুর্গা, মহিষাসুর, সিংহ সহ প্রতিটি চরিত্রের মুখাবয়ব, অলঙ্করণ ও ভঙ্গিমায় ফুটে উঠেছে পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে দেবীর রণংদেহী মুদ্রা এবং ছৌ নাচের মুখোশের আদল এই শিল্পকর্মকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

    চড়িদা গ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে এই মডেল এখন অন্যতম আকর্ষণ। অনেকেই স্মারক হিসেবে কিংবা বাড়ির শোভা বাড়াতে এটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বাজারে এই অভিনব মডেলের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, এমন নতুন ধরনের সৃষ্টি। পুরুলিয়ার লোকশিল্প আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে এবং শিল্পীদের নতুন বাজারও তৈরি হবে। শিল্পী ফাল্গুনী সূত্রধর বলেন, ‘ছৌ নাচ আমাদের গর্ব। আর দুর্গাপুজো বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। এই দুটিকে একসঙ্গে মিলিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। পর্যটকদের কাছ থেকে অসাধারণ সাড়া পাচ্ছি। আমার ইচ্ছা, এই মডেল শুধু পুরুলিয়াতেই নয়, কলকাতা সহ রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ুক।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)